সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স © সংগৃহীত
টিকা ক্রয় ইস্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে ‘ফর গড সেইক’ বা ‘খোদার দোহাই লাগে এমনটা করবেন না’— এমন মন্তব্যের তথ্যকে উড়িয়ে দিয়েছেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্সসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে টিকা ক্রয় ইস্যুতে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে রানা ফ্লাওয়ার্স ‘ফর গড সেইক' বা ‘খোদার দোহাই লাগে এমনটা করবেন না’ এ ধরনের মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
তবে আজ মঙ্গলবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ের জেপিজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এটি অস্বীকার করেছেন তিনি। বলেন, আমি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিইনি। এটা সম্পূর্ণ অসত্য।
টিকা ক্রয়প্রক্রিয়া নিয়ে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া ও সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের বিষয়। এখানে তার বা ইউনিসেফের কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগের প্রশ্নই আসে না। সরকার চাইলে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতেও টিকা ক্রয় করতে পারে। টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে টিকা যেহেতু একটি বিশেষায়িত পণ্য, তাই শুধু কম দামের বিষয় বিবেচনা করলেই হবে না। নিশ্চিত করতে হবে টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত, কার্যকর ও নিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, ইউনিসেফ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষে টিকা সংগ্রহ করে আসছে। বৃহৎ পরিসরে ক্রয়ের কারণে সংস্থাটি তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত টিকা সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পর ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খতিয়ে দেখব কেন প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে।