হাম পরিস্থিতি

অন্তর্বর্তী সরকারকে ২ বছরে ৫ থেকে ৬ বার সতর্ক করা হয়েছিল, দাবি ইউনিসেফের

২০ মে ২০২৬, ০৭:০০ PM , আপডেট: ২০ মে ২০২৬, ০৭:০৬ PM
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স © সংগৃহীত

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ধরে হামের রুটিন টিকার তীব্র সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলছে, তারা ২০২৪ সাল থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারকে এই সংকটের পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল। এমনকি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বিগত দুই বছরে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার চিঠি দিয়ে এবং উপদেষ্টাদের সাথে ১০ বারেরও বেশি বৈঠক করে এই আসন্ন বিপদের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম’ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

সংবাদ সম্মেলনে টিকার ভয়াবহ ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) হামের টিকার প্রয়োজন হয়। অথচ দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত রুটিন টিকা পাওয়া যায়নি। গত ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে মাত্র ১ কোটি ৭৮ লাখ (১৭.৮ মিলিয়ন) হামের টিকা আসে, যা ছিল দেশের মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।

সরকারের শীর্ষ মহলের সাথে যোগাযোগের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন দায়িত্ব পাবেন, তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে— এটি স্পষ্ট ছিল। আমরা জরুরি বৈঠকের জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। আমি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।

ইউনিসেফ জানায়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশের লাখ লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে গেছে। এর ফলে দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবে রূপ নেয়। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় আছে। আমরা খতিয়ে দেখব প্রতি বছর কেন প্রায় ৫ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর চলতি বছরের মে মাসে দেশে আবারও হামের রুটিন টিকা এসে পৌঁছেছে। এখন কাউকে দোষারোপ না করে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়, সেই ব্যবস্থা করার তাগিদ দিয়েছে ইউনিসেফ। বর্তমানে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা একসাথে কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচে জিতবে কে, যা বলছে সুপার কম্পিউট…
  • ১৭ জুন ২০২৬
আর্জেন্টিনা ভক্ত ছাত্রদল নেতাকে ব্রাজিল সমর্থক বানিয়ে ফেসবু…
  • ১৭ জুন ২০২৬
শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ১০ বছরের শিক্ষার্থী আহত, হাসপাতালে ভর্তি
  • ১৭ জুন ২০২৬
প্রেমের টানে নবীনগরে চীনা যুবক, চলছে বিয়ের প্রস্তুতি
  • ১৬ জুন ২০২৬
জুনে সম্ভাবনা নেই, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দুই মাসের বেতন: অ…
  • ১৬ জুন ২০২৬
‘বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর যত ঘুষ দিয়েছি, আগে কখনো দিইনি’
  • ১৬ জুন ২০২৬
×