হামের টিকা
অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান © সংগৃহীত
দেশে দীর্ঘ সময় ধরে হামের রুটিন টিকার তীব্র সংকট এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করা হয়েছিল— ইউনিসেফের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তৎকালীন স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারপ্রধান বা তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া কোনো যোগাযোগেই হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করেনি ইউনিসেফ।
আজ বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স অন্তর্বর্তী সরকারকে মৌখিকভাবে ১০ বারের বেশি এবং চিঠি দিয়ে অন্তত ৫ থেকে ৬ বার সতর্ক করার দাবি করেন। এর জবাবে রাতে এক বিবৃতিতে নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ দাবি করে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ (১ কোটি ৭৮ লাখ) হামের টিকা আসে, যার ফলে লাখ লাখ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায় এবং দেশে বড় প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়। এ সময় রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল। আমরা আশা করেছিলাম যিনি নতুন দায়িত্ব পাবেন, তার ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারকে ২ বছরে ৫ থেকে ৬ বার সতর্ক করা হয়েছিল, দাবি ইউনিসেফের
তিনি আরও বলেন, আমি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা এবং কর্মীদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমি এবং আমার কর্মীরা বলেছি, আমরা চিন্তিত। আমার মুখ দেখে বুঝুন, আমি চিন্তিত যে আপনারা টিকার সংকটে পড়তে যাচ্ছেন।
ইউনিসেফের এসব দাবির প্রতিক্রিয়ায় তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, আজকের সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। ২০২৫ সালে হামের টিকার অভাবে টিকা না পেয়ে কোনো মানুষ ফিরে গেছেন বলে জানা যায় না। এমনকি টিকার কাভারেজেও (সাফল্যের হারে) সেটা প্রতিফলিত হয়।
২ বছরে ৫ থেকে ৬ বার চিঠি দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সাথে ১০ বারের বেশি বসার দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, যতদূর জানি, বিশেষ ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ইন্টার-এজেন্সি কোঅর্ডিনেশন কমিটি (আইসিসি) কর্তৃক নেওয়া হয়, যেখানে ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচওর (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) প্রতিনিধিও থাকেন। কিন্তু ইউনিসেফের পক্ষ থেকে করা যোগাযোগসমূহে ‘হামের প্রাদুর্ভাব’ নিয়ে কোনো কিছুই উল্লেখ ছিল না।