হাম পরিস্থিতি
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছে ৪৫১ জন © টিডিসি
দেশে গত দুই মাসে উচ্চ সংক্রামক ব্যাধি হামে আক্রান্ত হয়েছে ৬৩ হাজারের বেশি শিশু। মারা গেছে মোট ৪৫১ জন। এ হিসেবে আক্রান্তদের প্রতি ১৪০ জনে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকেরই হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১৫ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার একই সময় পর্যন্তও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ এসেছিল। আর বাকি ৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় ১১১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর উপসর্গ দেখা গেছে এক হাজার ১৯২ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে মোট ৬৩ হাজার ২৭ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে মোট ৭ হাজার ৪১৬ জনের শরীরে। আর ৫৫ হাজার ৬১১ জনের শরীরে দেখা গেছে উপসর্গ। আক্রান্তদের মোট ৪০ হাজার ১৭৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।
আরও পড়ুন: হামে মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে নিউমোনিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় চিকিৎসা ‘ব্যাহত’
এ ছাড়া হামে এ পর্যন্ত মোট ৪৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৭৪ জনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছিল। বাকি ৩৭৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত প্রতি ১৪০ জন আক্রান্তে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যার শতকরা হার ০.৭২ শতাংশ। অপরদিকে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তির বিপরীতে ৯ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, যার শতকরা হার ৮৯.৭৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, মোট ৩০ হাজার ১৩৪ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার ১১৫ জনের ল্যাব টেস্টে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। বাকি ২৫ হাজার ১৯ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে হামের উপসর্গ। আক্রান্তদের ১৭ হাজার ৪৪০ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ হাজার ৬৭০ জন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের ৪৭ ল্যাব পরীক্ষা এবং ১৫০ জনের শরীরে উপসর্গ দেখে হাম নিশ্চিত হয়েছেন চিকিৎসকরা।
আরও পড়ুন: হামে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্ত-মৃত্যুর পার্থক্য কী?
ঢাকার পর আক্রান্ত ও মৃতের হিসেবে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১০ হাজার ৪১৫। এর মধ্যে ৯৩০৮ ‘সন্দেহজনক’ এবং ১১০৭ জন ‘নিশ্চিত’ আক্রান্ত এবং ৭৮ ‘সন্দেহজনক’ এবং ২ জনের ‘নিশ্চিত’ মৃত্যু হয়েছে। এই বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৪ হাজার ৬৮৬ শিশু, যার মধ্যে ৪ হাজার ১২২ জনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
১০ হাজারের নিচে আক্রান্তের তালিকার শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম। বিভাগটিতে মোট ৮ হাজার ৭৯৪ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ৫৬৭ জনের। চট্টগ্রামে মারা গেছে মোট ৪৩ জন, যার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে ৮ জনের ব্যাপারে। আক্রান্তদের ৭ হাজার ৪৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা নিয়েছে, এ পর্যন্ত হাসপাতাল ছেড়েছে ৬ হাজার ৯৮৭ জন।
বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা ৪ হাজার ৩৭৩। এর মধ্যে ১৫৮ জনের ল্যাব পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ বিভাগে মোট ৩ হাজার ৫৫৭ জন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছে, যার ৩ হাজার ২৫১ জন সুস্থ হয়েছে। আর মারা গেছে মোট ৪১ জন, যাদের ১২ জনের ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ২৯ জনের শরীরে উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: অর্ধেক খরচে দেশেই উৎপাদন হবে হাম-ডেঙ্গু ও জলাতঙ্কের টিকা
খুলনা বিভাগে মোট ৪ হাজার ২৩৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় পজিটিভ পাওয়া গেছে ২৪০ জনের। এ বিভাগে মোট ৩ হাজার ৫৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩ হাজার ১৮৭ জন। এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মারা গেছে মোট ১৯ জন। তাদের সবার শরীরে হামের উপসর্গ ছিল।
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ২ হাজার ১৩০ জন, যাদের ১ হাজার ৭৩২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। এ বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯০, যাদের ১৪৮ জনের ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে মারা গেছে মোট ৩৩ জন। মৃতদের ৩০ জনই উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
ময়মনসিংহ বিভাগে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে ৪২ জনের শরীরে। এ ছাড়া অদ্যাবধি মোট ৮৯৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের ৭০৬ জনই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। তবে এই বিভাগে এ পর্যন্ত মারা গেছে মোট ৩৪ জন। এর মধ্যে দুজনের ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট
হাম আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে। এ বিভাগে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬১ জন। এর মধ্যে ৩৯ জনের ল্যাব পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। এ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪ জন। রংপুর বিভাগে ৪৫৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের ৪০০ জনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জরুরি হামের টিকাদান কর্মসূচিতে সারাদেশে মোট ১ কোটি ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩৪ শিশুকে এমআর টিকা দেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই ক্যাম্পেইন কাভারেজের হার ১০১ শতাংশ।