সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা

হামে মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে নিউমোনিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করায় চিকিৎসা ‘ব্যাহত’

১৫ মে ২০২৬, ০৪:৫৪ PM
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা © সংগৃহীত

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ৯৯ শতাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বক্ষব্যাধি ও শিশু বিশেষজ্ঞরা। তবে হামের পর নিউমোনিয়াসহ শ্বাসতন্ত্রজনিত জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়, যা দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। যদিও বহু জীবানু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

আজ শুক্রবার (১৫ মে) ‘বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন’ এবং ‘চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসকরা দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতি ও করণীয় সম্পর্কে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক জানান, অতীতে সফল টিকাদানের মাধ্যমে হাম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও গত দুই বছরে এই কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গত ১৪ মে পর্যন্ত মাত্র ৬০ দিনে দেশে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন শিশুর মধ্যে হাম ও হাম সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন হামে এবং ৩৬৯ জন হাম সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হলো শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে পড়া বা নিউমোনিয়া।

আরও পড়ুন: হামে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

বিশেষজ্ঞরা জানান, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ)। কিন্তু একবার এই গুরুতর জটিলতা তৈরি হলে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা ডায়রিয়ার চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক দুর্বলতার কারণে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা বেশি দেখা দেয়। এছাড়া ডায়রিয়া, বমি, মারাত্মক পানিশূন্যতা এবং দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ এবং শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি হলেও, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) কারণে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে হামের বিস্তার রোধে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এগুলো হলো— অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি জোরদার রাখা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফিভার কর্নার’ চালু করে হামপ্রবণ এলাকা দ্রুত চিহ্নিত করা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত চিকিৎসা নির্দেশিকা মাঠপর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেয়া এবং দেশব্যাপী হামের উপসর্গ ও সঠিক চিকিৎসা বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

আরও পড়ুন: ঢাকার ৮৩% স্কুলগামী শিশুর স্ক্রিনটাইম সাড়ে ৪ ঘণ্টা, মানসিক সমস্যায় দুই-পঞ্চমাংশ

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত শিশুকে অপতথ্যে বিভ্রান্ত না করে, শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া মাত্রই যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের আওতায় আনতে হবে।

আরও পড়ুন: হামে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক আক্রান্ত-মৃত্যুর পার্থক্য কী?

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব প্রফেসর ডা. আসিফ মুজতাবা মাহমুদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রুহুল আমিন, জয়েন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেন্নুর এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. গোলাম সরওয়ার লিয়াকত হোসেন ভুঁইয়া।

শাহবাগে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ‘জুতার মালা’, সরিয়ে দিল জনতা 
  • ১৫ মে ২০২৬
যশোরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নম্বর-প্রশংসাপত্র প্রদানের নামে বাণ…
  • ১৫ মে ২০২৬
২২ মাস বেতন নেই, কর্মবিরতিতে সরকারি ইউনানী-আয়ুর্বেদিক কলেজে…
  • ১৫ মে ২০২৬
ব্র্যাক নিয়োগ দেবে সহকারী প্রধান শিক্ষক/প্রধান শিক্ষক, পদায়…
  • ১৫ মে ২০২৬
জঙ্গি সম্পৃক্ততা সন্দেহে দুর্গম টিলা থেকে চাকরিচ্যুত সেনা স…
  • ১৫ মে ২০২৬
হামে মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে নিউমোনিয়া, অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না…
  • ১৫ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081