রুমে ডেকে নেয় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না, বাথরুমে কী ঘটেছিল ছোট্ট রামিসার সঙ্গে? যা আছে বর্ণনায়

২০ মে ২০২৬, ০৯:৩৫ PM
হত্যার শিকার রামিসা

হত্যার শিকার রামিসা © সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আজ বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা শিশুটির ওপর চালানো নৃশংসতার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আজ ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

দুপুরে আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান। এর মধ্যে একটি আসামি সোহেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার। অপর আবেদনে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আর্জি জানানো হয়।

বাথরুমে কী ঘটেছিল ছোট্ট রামিসার সঙ্গে
জবানবন্দি ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। সেখানে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এ সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ এবং আরেকটি কক্ষে বালতির ভেতর তার খণ্ডিত মাথাটি দেখতে পান তারা।

মূলত মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি জবানবন্দিতে জানায়, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে তার পূর্ব কোনো শত্রুতা ছিল না। ঘটনার দিন স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে রুমের ভেতর নিয়ে যাওয়ার পর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। এতে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরই মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী স্বপ্নাও একই রুমে অবস্থান করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রামিসার ওপর চরম নৃশংসতা চালানো হয়। সোহেল ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে এবং তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। এ ছাড়া দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। নৃশংস এই অপরাধ শেষে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল রানা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার পর পুলিশ প্রথমে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা গ্রেপ্তার হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।

নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করবে কিনা জানাল সরকার
  • ১১ জুন ২০২৬
কৃষি শিক্ষকদের গ্রেড সংশোধন, ১১তম থেকে ১০ম-এ আসতে আবেদন সরা…
  • ১১ জুন ২০২৬
আর কোনদিন পরীক্ষায় বসবে না কলেজ ছাত্র হান্নান শাহ
  • ১১ জুন ২০২৬
কমতে পারে দেশে তৈরি মোবাইল ফোনের দাম, কলরেটেও স্বস্তির ইঙ্গ…
  • ১১ জুন ২০২৬
বিএনপির ইশতেহারে আলোচিত বেকার ভাতা নিয়ে সুখবর নেই বাজেটে
  • ১১ জুন ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করবে বিএনপি সরকার
  • ১১ জুন ২০২৬
×