স্বাস্থ্যখাত এখন একটি ডিজাস্টার, হাসপাতাল না বলে বাজার বলা ভাল: জামায়াত আমির

১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ PM
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াত আমির

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন জামায়াত আমির © সংগৃহীত

দেশের স্বাস্থ্যখাতের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে হাসপাতালের পরিস্থিতিকে বাজারের সঙ্গেও তুলনা দিয়েছেন তিনি। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এ সময় হাসপাতালটিতে ফুসফুসের সংক্রমণ, টিউমার, বা শ্বাসনালীর বাধার মত শ্বাসযন্ত্রের রোগ নির্ণয়ের জন্য একটি ব্রঙ্কোস্কোপি মেশিন উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে জামায়াত আমির হাসপাতালটির চেয়ারম্যান, পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালে ৫০টি বেড নিয়ে শুরু হওয়া এই হাসপাতালে এখন বেড সংখ্যা ৭০০। কিন্তু সারা দেশ থেকে রেফার হয়ে আসা জটিল রোগীদের চাপে বিপুল সংখ্যক রোগীকে ভর্তি না করতে পেরে ফেরত দিতে হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সংকট ভয়াবহ।

তিনি বলেন, এখানে নিউবর্ন বেবি বা নবজাতকদের জন্য এনআইসিইউ ও শিশুদের জন্য পিআইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই বা সিটি স্ক্যান করার ব্যবস্থা নেই। মুমূর্ষু শিশুদের এসব পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় ঝুঁকি বিবেচনায় পাঠানো সম্ভব হয় না, ফলে সঠিক চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইউএইচএফপিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী: বর্তমান সরকার ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়তে চায়

হাসপাতালটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারের কাছ থেকে অনুদান পায় জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে সরকার বছরে ৩০ কোটি টাকা অনুদান দিলেও গত বছর তা কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাজেট যখন প্রতি বছর বাড়ছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ কমানো হল কেন? আমরা ইনশাআল্লাহ সংসদে আমাদের শিশুদের জন্য এবং এই বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলব।

দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যখাতের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, পুরা স্বাস্থ্যখাতটি এখন একটি ডিজাস্টার। কয়েকদিন আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যা দেখেছি, তাকে হাসপাতাল না বলে বাজার বলা ভাল। ১০০০ বেডের বিপরীতে সেখানে ৩০০০-৩৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। প্রয়োজনীয় ম্যানপাওয়ার ও লজিস্টিক সাপোর্ট নেই। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য— এই দুই খাতেই আমাদের সবচেয়ে বেশি উপেক্ষা ও লাঞ্ছনা করা হয়েছে।

পরিদর্শনকালে জামায়াত আমির শিশু হাসপাতালের পক্ষ থেকে একটি ‘ব্রঙ্কোস্কোপি’ যন্ত্রের চাহিদার কথা জানতে পারেন। তিনি বলেন, শিশুরা আমাদের কাছে আমানত, তারাই আগামীর ভবিষ্যৎ। আমরা ইনশাআল্লাহ আমাদের সামর্থ্যের মধ্য থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি ব্রঙ্কোস্কোপি যন্ত্র সরবরাহ করার চেষ্টা করব। রাজনীতি মানেই শুধু সরকারি ফান্ড দিয়ে কাজ করা নয়, বরং নিজের পকেটের পয়সা দিয়েও জনগণের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, দেশের হাম পরিস্থিতির অবস্থা দেখতে এসে যা দেখলাম, তা উদ্বেগজনক। হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পুরো স্বাস্থ্যখাত বর্তমানে এক নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলোকে এখন আর সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোডশেডিং: জেনারেটর থাকলেও বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হামের মত ব্যাধির চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে কোনো আইসিইউর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের অনেক কিছু কিতাবে ও খাতায় আছে, কিন্তু আমরা সেগুলো বাস্তবে দেখতে চাই। জরুরি অবস্থা কখনো নোটিশ দিয়ে আসে না, কিন্তু সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় তারা নির্বিকার।

সংসদে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দেশের এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলব। অথচ সংসদে সরকারি দলের সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। তারা বাস্তবতাকে আড়াল করতে চাইছেন।

বজ্রপাতে দেশে একদিনে প্রাণ গেল ১২ জনের
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রেমে জড়িয়ে ৬ মাস আগে বিয়ে করেন পুলিশ সম্রাট, অনুষ্ঠান হওয়…
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলা ১ম পত্রে ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে এনসিপি
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
মমেকে সংঘর্ষ, এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল ছাত্রদল
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬
নতুন আরও ২৩ মুখ পেল মাহফুজের অল্টারনেটিভস
  • ১৮ এপ্রিল ২০২৬