হামে আক্রান্ত শিশু © সংগৃহীত
গত মার্চে হঠাৎ হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট ৩৪ জন হাম আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে, অর্থাৎ সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে ১৭২টি। ফলে এক মাসে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৬ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৩৫২ শিশুকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৬৫ জনের শরীরে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই এক মাসে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত ১৩ হাজার ১২৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ১০ হাজার ৪৯৬ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছে।
হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের এক মাসের তথ্য অনুযায়ী, অদ্যাবধি আক্রান্ত ও সন্দেহজনক হাম রোগীর তালিকা সবচেয়ে দীর্ঘ ঢাকা বিভাগে। এর মধ্যে মোট ৮ হাজার ৭৫৯ সন্দেহজনক ও এক হাজার ৮৪৫ নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৪১ জন, যার মধ্যে ৪ হাজার ৪২০ জন ইতোমধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে। এই বিভাগে মারা গেছে মোট ৯৮ শিশু। এর মধ্যে ৭৮ জন সন্দেহজনক ও ২০ জন নিশ্চিত হাম রোগী।
ঢাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এ অঞ্চলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৫৪ সন্দেহজনক ও ৮১৩ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ৬৫ জন সন্দেহজনক ও তিনজন নিশ্চিত হাম রোগী। হাসপাতালে যাওয়া ২ হাজার ৩১০ জনের মধ্যে এক হাজার ৭৮১ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগে মোট ২ হাজার ৬৭০ সন্দেহজনক শনাক্ত ও ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত ১৮১ জন শনাক্তের বিপরীতে মারা গেছে চারজন। এ বিভাগে অদ্যাবধি এক হাজার ৯৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর মধ্যে ১ হাজার ৯৫৬ জনই ছাড় পেয়েছে। বরিশালে এ পর্যন্ত এক হাজার ২৭১ জন সন্দেহজনক ও ৭৯ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ২ ও নিশ্চিত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ৭৯৮ জন হাসপাতালে যাওয়া রোগীর ৬২০ জনই ছাড় পেয়েছে।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় এ পর্যন্ত ১০ জন এবং সিলেটে ৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহে মারা গেছে ২ নিশ্চিত হাম রোগী।