আনোয়ারা
তীব্র গরমে ছটফট করতে থাকা ছেলেকে নিয়ে বারান্দায় বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন মা © টিডিসি ফটো
তীব্র লোডশেডিংয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিনে দুই থেকে তিনবার বিদ্যুৎ এলেও তা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। এতে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালে দুটি জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেগুলো চালু রাখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত সময়ের জন্য জেনারেটর চালু করা হয়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের হাতে হাতে হাতপাখা। কেউ কাগজ ভাঁজ করে বাতাস করছেন, কেউবা বারান্দায় এসে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। শিশু ও বৃদ্ধ রোগীদের কষ্ট ছিল সবচেয়ে বেশি। এক মা অসুস্থ শিশুকে নিয়ে বারান্দায় বসে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন, অন্যদিকে এক বৃদ্ধা কাগজের তৈরি পাখা দিয়ে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রায় ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালে আরও ৩০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর যুক্ত হয়। তবে জ্বালানি তেলের সরকারি বরাদ্দ না থাকায় দুটি জেনারেটরই কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।
হাসপাতালে ভর্তি আবুল কাশেম (৬০) বলেন, শ্বাসকষ্ট নিয়ে কয়েক দিন আগে ভর্তি হয়েছি। রাতে মাত্র দুইবার ১০ মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ এসেছে। গরমে ঘুমাতে পারিনি, পুরো হাসপাতাল অন্ধকার হয়ে থাকে।
আমেনা বেগম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়। জেনারেটর থাকলেও চালানো হয় না। আমরা বাড়ি থেকে হাতপাখা এনে ব্যবহার করছি,” বলেন তিনি।
হেটিখাইন এলাকা থেকে আসা আমির খান বলেন, 'ছেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। দিনে দুই-তিনবার বিদ্যুৎ আসে, তাও বেশিক্ষণ থাকে না। গরমে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে উঠেছে।'
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'জ্বালানি সংকটের কারণে সারা দেশেই লোডশেডিং চলছে। হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও সরকারি কোনো তেল বরাদ্দ নেই। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না।'