‘উপেক্ষিত’ ল্যাবভিত্তিক পেশাজীবীরা
প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতার প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা © সংগৃহীত
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর করে বাধ্যতামূলক করার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টস। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা নির্দেশনায় ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসের আহ্বায়ক মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য জারিকৃত নির্দেশাবলীর প্রতি আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারায় শুধুমাত্র বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) রেজিস্টার্ড ডাক্তারদের দ্বারা টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরের যে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক।
এতে বলা হয়, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশে বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হিস্টোপ্যাথলজিস্ট, হেমাটোলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মেডিকেল/ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট ও ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টরা তাদের নিজ নিজ বিশেষজ্ঞ ক্ষেত্র অনুযায়ী পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত চর্চা। কিন্তু এই নির্দেশনার মাধ্যমে কার্যত ডায়াগনস্টিক সেক্টরে কর্মরত হাজারও ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ অন্যান্য ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞ পেশাজীবীকে উপেক্ষা করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবীদের পেশাগত মর্যাদা ও অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। আমরা এটিকে একটি সুপরিকল্পিতভাবে এই পেশাজীবী শ্রেণিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা হিসেবে দেখছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারাটি প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানাচ্ছি এবং বাস্তবতা ও পেশাগত ন্যায্যতার আলোকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না জানিয়ে নির্দেশনা জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মেডিকেল অফিসারকে নিজ হাতে স্বাক্ষর করে রিপোর্ট প্রদান করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকালে যে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ, রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, রিপোর্টে তারই নিজ হাতে স্বাক্ষর থাকতে হবে। অন্য কোনো চিকিৎসকের স্বাক্ষর বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি (অটো জেনারেটেড) রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা যাবে না। অটো জেনারেটেড রিপোর্ট যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ প্রদান করতে হবে। রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকদের অবশ্যই বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) নিবন্ধিত মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। পাশাপাশি, প্যাথলজি ল্যাবের সব যন্ত্রপাতির নিয়মিত ক্যালিব্রেশন নিশ্চিত করা এবং ল্যাব পরীক্ষার রেজিস্টার সংরক্ষণ ও রেকর্ড মেইনটেইন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নির্দেশনায় ল্যাব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে এবং সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতি অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব নির্দেশনা শুধুমাত্র বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য। আদেশটি জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে এবং মহাপরিচালকের অনুমোদন রয়েছে।