মোজা পরে ঘুমানো © ফাইল ছবি
শীত যত বাড়ছে, ততই প্রভাব পড়ছে রাতের ঘুমে। কম্বলের ভেতর ঢুকেও অনেকের পা বরফের মতো ঠান্ডা থাকে, ফলে ঘুম আসতে চায় না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মোজা পরে ঘুমানোর পথ বেছে নেন। আবার কারও কাছে এটি নিত্যদিনের অভ্যাস মোজা না পরলে ঘুমই আসে না। অথচ ছোটবেলা থেকে আমরা অনেকেই শুনে এসেছি, ঘুমানোর সময় মোজা পরা ঠিক নয়। কিন্তু আদৌ কি এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর, নাকি উপকারও আছে?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো উপকারি হতে পারে। তবে নিয়ম না মেনে বা ভুলভাবে এই অভ্যাস চালু রাখলে তা শরীরের নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানোর আগে এর ভালো ও খারাপ দিক জানা জরুরি। নিচে এমন কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হলো, যেগুলোর জন্য অনেক সময় মোজা পরে ঘুমানো নিরুৎসাহিত করা হয়
রক্ত চলাচলে সমস্যা হতে পারে
অনেকে মনে করেন, মোজা পরলে পায়ের রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। কিন্তু মোজাটি যদি খুব আঁটসাঁট হয়, তাহলে ঠিক উল্টো ফল হতে পারে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে পায়ের শিরায় চাপ পড়ে, এতে অস্বস্তি, ব্যথা বা ঝিনঝিনে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই ঘুমানোর সময় সাধারণ মোজার বদলে ঢিলেঢালা ও নরম ‘বেড সক্স’ ব্যবহার করাই ভালো।
ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
সিনথেটিক বা নাইলনের মোজা বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে পায়ে ঘাম জমে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বংশবিস্তার সহজ হয়। এর ফলে ফাঙ্গাল সংক্রমণ, চুলকানি বা দুর্গন্ধের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে ঘুমানোর সময় মোজা পরতে হলে তুলার তৈরি, বাতাস চলাচলযোগ্য মোজা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে
ভালো ঘুমের জন্য শরীর স্বাভাবিকভাবেই রাতের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নেয়। কিন্তু মোটা বা বদ্ধ মোজা পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের গভীরতা কমে যায় এবং বারবার ঘুম ভাঙতে পারে।
ঘুমের স্বস্তি নষ্ট হয়
অস্বস্তিকর বা টাইট মোজা পরে থাকলে ঘুমের মধ্যে অজান্তেই পায়ে চাপ অনুভূত হতে পারে। ঘাম জমা বা অস্বস্তির কারণে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন এমন হলে অনিদ্রাসহ ঘুমসংক্রান্ত নানা সমস্যার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্যবিধির ঘাটতি দেখা দেয়
দিনভর ব্যবহৃত বা অপরিষ্কার মোজা পরে বিছানায় যাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এতে পায়ের জীবাণু বিছানায় ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা সংক্রমণ ও দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ঘুমানোর সময় মোজা পরতেই হলে তা অবশ্যই পরিষ্কার হতে হবে।
তবে গবেষণায় এমন তথ্যও পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মোজা পরে ঘুমানো উপকারি হতে পারে, বিশেষ করে যাদের পা খুব বেশি ঠান্ডা হয়। সেক্ষেত্রে শর্ত হলো, মোজাটি যেন ঢিলেঢালা, পরিষ্কার এবং বাতাস চলাচলযোগ্য কাপড়ের হয়।
শীতের রাতে ঠান্ডা পা নিয়ে ঘুমাতে যাওয়া নিঃসন্দেহে অস্বস্তিকর। কিন্তু আরামের জন্য ভুল অভ্যাস গড়ে তুললে তা ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই মোজা পরে ঘুমানোর আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি মোজাটি আরামদায়ক, পরিষ্কার এবং শরীরের জন্য উপযোগী কি না। সচেতন থাকলে শীতের রাত কাটবে স্বস্তিতে, ঘুমও হবে নির্ঝঞ্ঝাট।
সূত্র: টাইমস অ