পায়ের গোড়ালি © সংগৃহীত
পায়ের গোড়ালির ব্যথা (হিল পেইন) বর্তমানে একটি সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা হলেও দিন দিন এটি বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনের হাঁটাচলা, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা কিংবা অফিসে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার কারণে পায়ের পাতা ফুলে ভারী হয়ে এ ব্যথা হয়৷ অনেকসময় ঘুম থেকে উঠে বিছানা থেকে নামতে গিয়েও এই ব্যথা টের পাওয়া যায় ভাল ভাবেই। এ ছাড়া অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এই ব্যথা হয়ে থাকে। পায়ের পিছনের গোলাকার অংশকে হিল বলা হয় এবং এই অংশে বা আশপাশে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হলে তাকে গোড়ালি ব্যথা হিসেবে ধরা হয়।
ব্যথার প্রধান কারণ
পায়ের পাতা হঠাৎ করেই ফুলে যাচ্ছে। অথচ ইউরিক অ্যাসিড নেই। হিল জুতোও পরেন না, তা-ও গোড়ালিতে তীব্র যন্ত্রণা ভোগাচ্ছে। পায়ের পাতায় এমন ব্যথা বেদনা মাঝেমধ্যেই হয়। যদি তা দীর্ঘমেয়াদে ভোগাতে থাকে, সে ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। অনেকেই ভাবেন এমন ব্যথা বাতের কারণে হয়ে থাকে। সব ক্ষেত্রে তা নয়। তা হলে ব্যথার কারণ কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে গোড়ালি ব্যথার একাধিক কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস: পায়ের তলার পুরু টিস্যুতে ক্ষতের কারণে সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটার সময় তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে।
অ্যাকিলিস টেনডিনাইটিস: বাছুরের পেশি ও হিলের হাড় সংযুক্তকারী টেনডনে ক্ষত, যা হঠাৎ দৌড় বা ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ালে বেশি দেখা যায়।
হিল স্পার: দীর্ঘদিনের চাপের ফলে হিলের হাড়ে ক্যালসিয়াম জমে হাড়ের মতো বৃদ্ধি তৈরি হওয়ার ফলে ব্যথা হয়।
বারসাইটিস: গোড়ালির পিছনের তরল ভর্তি থলি ফুলে গিয়ে ব্যথা সৃষ্টি করা।
স্ট্রেস ফ্র্যাকচার: অতিরিক্ত হাঁটা বা দৌড়ের ফলে হাড়ে সূক্ষ্ম ফাটল।
কারা ভোগেন বেশি
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলে প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিসের সমস্যা বেশি হয়। এক টানা বসে কাজ করেন যাঁরা, শরীরের নড়াচড়া কম হয়, তাঁদের হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করেন যাঁরা, তাঁরা ভোগেন এই সমস্যায়। যাদের পায়ের পাতা একেবারে সমান্তরালভাবে মাটিতে স্পর্শ করে, অর্থাৎ ফ্ল্যাট ফুটের সমস্যা থাকলে এমন ব্যথা মাঝেমধ্যেই হতে পারে। সঠিক জুতো না পরলে বা দীর্ঘ সময় হিল জুতো পরে থাকলে লিগামেন্টটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওষুধ ছাড়া ব্যথা কমবে যেভাবে
চিকিৎসকদের মতে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গোড়ালি ব্যথা প্রাথমিক যত্ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে
আক্রান্ত পায়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, দিনে কয়েকবার ১৫ থেকে ২০ মিনিট বরফ সেঁক দেওয়া, আরামদায়ক ও সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার, হিল প্যাড বা সিলিকন ইনসোল ব্যবহার, সকালে ও রাতে হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করার মাধ্যমে এটি কমানো সম্ভব।
এ ছাড়া প্রয়োজনে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ফিজিওথেরাপি, নাইট স্প্লিন্ট বা বিশেষ কাস্ট, কর্টিকোস্টেরয়েড ইনজেকশন, এক্স-রে বা রক্ত পরীক্ষা করাতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
দুই সপ্তাহেও ব্যথা না কমলে, গোড়ালি ফুলে গেলে বা লাল হয়ে গেলে, হাঁটতে অসুবিধা হলে কিংবা হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।