রমজানে ওজন কমাতে ইফতার-সাহরিতে কী খাবেন, তাসনিম জারার পরামর্শ

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৯ PM , আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪০ PM
রমজানে সুস্থ ও ভালো থাকতে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। (ইনসেটে) চিকিৎসক তাসনিম জারা

রমজানে সুস্থ ও ভালো থাকতে খেতে হবে স্বাস্থ্যকর খাবার। (ইনসেটে) চিকিৎসক তাসনিম জারা © সংগৃহীত

রমজান মাস শুধু আত্মসংযমের নয়, স্বাস্থ্য সচেতনতারও এক অনন্য সুযোগ। অনেকেই এ সময়ে ওজন কমানোর পরিকল্পনা করেন। তবে সারাদিন না খেয়ে থেকে ইফতারে অনিয়ন্ত্রিত খাবার ও সেহরিতে অতিভোজন হলে উল্টো ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে সুস্থভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক তাসনিম জারা।

ইফতার শুরু হোক খেজুর ও পানি দিয়ে
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি, ফাইবার ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান, যা সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ফাইবার হজমে সহায়ক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কার্যকর। খেজুর খাওয়ার পর অনেকে চিনি মেশানো শরবত পান করেন। 

এর পরিবর্তে সাধারণ পানি পান করাই উত্তম। সুযোগ থাকলে ডাবের পানি পান করা যেতে পারে এটি দ্রুত পানিশূন্যতা দূর করে। ফলের জুস খেতে চাইলে বাসায় তৈরি করে চিনি ছাড়া পান করাই ভালো।

চিনি ও ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এটি ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। মিষ্টি খেতে চাইলে ফলমূলই হতে পারে সেরা বিকল্প। ফলে রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক।

ইফতারে জনপ্রিয় পেঁয়াজু, বেগুনি, জিলাপি বা বুন্দিয়ার মতো ডুবো তেলে ভাজা খাবারে ট্রান্সফ্যাট থাকার সম্ভাবনা বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক মোট ক্যালোরির মাত্র ২ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট থেকে এলে হৃদরোগের ঝুঁকি প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

বিরতি নিয়ে খান, অতিভোজন নয়
খেজুর, পানি ও ফল খাওয়ার পর কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া উপকারী। এ সময় নামাজ আদায় বা হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজমে সহায়তা করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। সারাদিন রোজা রেখে ইফতারে অতিভোজন করলে গ্যাস্ট্রিক, অস্বস্তি ও ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন: স্কলারশিপে স্নাতকোত্তর করুন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, উপবৃত্তিসহ থাকছে নানা সুবিধা

বিরতির পর মূল খাবারে রাখতে পারেন সবজি, লাল চালের ভাত বা লাল আটার রুটি, সঙ্গে মাছ, মাংস, ডাল বা ডিমের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। রান্নায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করাই ভালো। সম্ভব হলে স্বাস্থ্যকর তেল, যেমন অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস বা প্রায় আড়াই লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। এতে শরীরের পানিশূন্যতা পূরণ হয় এবং বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
সাহরিতে কী খাবেন?

সাহরির খাবার এমন হওয়া উচিত, যা দীর্ঘ সময় পেটে থাকে এবং ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। চিয়া সিডের শরবত, কলা, আপেল, কমলা ইত্যাদি ফল, লাল চালের ভাত বা আটার রুটি, ডাল, সিদ্ধ ডিম বা অন্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং দিনের ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

রমজানে ওজন কমাতে চাইলে মূলমন্ত্র হলো সুষম খাদ্য, পরিমিত ভোজন ও পর্যাপ্ত পানি পান। সারাদিনের রোজার পর অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ না করে পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে রমজান হতে পারে সুস্থ ও ফিট থাকার সুবর্ণ সুযোগ। 

তিন কারণে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের নামের পাশে …
  • ১৫ মে ২০২৬
পবিপ্রবিতে শিক্ষকদের আন্দোলনে হামলার নেপথ্যে ‘ভিসি-প্রোভিসি…
  • ১৫ মে ২০২৬
বাবা ও তিন ভাই-বোনের পরে মারা গেলেন মা’ও
  • ১৫ মে ২০২৬
ময়মনসিংহসহ ৫ জেলায় ৩টার মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ের সতর্কবার্তা
  • ১৫ মে ২০২৬
দুই দশক পর চাঁদপুর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ১৫ মে ২০২৬
মানসিক ভারসাম্য হারাচ্ছেন ধর্ষণের অভিযোগে ফাঁসানো সেই ইমাম 
  • ১৫ মে ২০২৬