যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে বি-১ বোমারু বিমানে জেডিএএম মারণাস্ত্র মজুত করা হচ্ছে © সংগৃহীত
ইরানে আরো ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য লন্ডনের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান বি-১ -এ শক্তিশালী বিস্ফোরক বোঝাই করছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার
যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটিতে গতকাল বুধবার মার্কিন বিমানবাহিনীর বি-১ বোমারু বিমানে ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা মজুত করতে দেখা গেছে। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে পেন্টাগন হয়ত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণের মতো ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে এ ভারী বিমানগুলো পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভিডিওতে দেখা গেছে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে অন্তত একটি বি-১ বিমানের অস্ত্র রাখার স্থান থেকে একটি মিসাইল লঞ্চার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বি-১ টাইপ বোমারু বিমানগুলো আকাশ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে পারে। এগুলো লক্ষ্যবস্তু থেকে শত শত মাইল দূর থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব; যা বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সীমানার বাইরে থাকে। তবে ইরান যেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত করে রেখেছে, সেই সুসংহত ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র খুব একটা কার্যকর নয়।
যুক্তরাজ্যে বি-১ বোমারু বিমানে যে ‘জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশনস’ (জেডিএএম) মজুত করতে দেখা গেছে, সেগুলো নিক্ষেপের জন্য বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ২৫ মাইলের মধ্যে থাকতে হয়। বোমারু বিমানকে লক্ষ্যবস্তুর এত কাছে, বিশেষ করে ইরানের আকাশসীমার অনেক ভেতর নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাটি একটি বড় সংকেত। এর অর্থ পেন্টাগন আত্মবিশ্বাসী যে তারা ইরানের বিমানবিধ্বংসী সক্ষমতা প্রায় পুরোটাই ধ্বংস করে দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য সম্পৃক্ত হলে তা বিশ্বব্যাপী নৈরাজ্য ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যে কারণে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তবে ট্রাম্পের জোরাজুরিতে শেষপর্যন্ত সেখান থেকে পিছু হটে লন্ডন।