‘আঘাতের চিহ্ন না পাওয়া’ নিয়ে যা বললেন বিশেষজ্ঞেরা

০৭ জুন ২০২১, ০৮:৩৯ PM
অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ © ফাইল ফটো

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের শরীরে ‘আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি’ বলে আদালতকে জানিয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ড। এর আগে দেশব্যাপী আলোচিত বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মরদেহে চাপাতির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। অতীতে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ।

অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘যে আঘাত দৃশ্যমান, আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের সেটা দেখতে না পাওয়াটা অবান্তর। আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও যদি তারা সেটি দেখতে না পান, তাহলে এখানে নিশ্চয়ই তাদের কোনো উদ্দেশ্য আছে।  এর মধ্যে আমি দুর্নীতি দেখছি। বিনা উদ্দেশ্যে তো এরকম মিথ্যা কথা বলবে না।’

অধ্যাপক ডা. নজরুল বলেন, ‘বিশ্বজিৎকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর ভিডিওচিত্র আমরা টিভিতে দেখেছিলাম। এরকম একটা ঘটনার পরেও মরদেহে কোপ না পাওয়া মানে হলো তা অবান্তর। একটা মানুষকে কোপালে সেই চিহ্ন থাকবে না? এটা কি জাদুবিদ্যা?’

আরও পড়ুন: গৌরীপুর কলেজের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন

কার্টুনিস্ট কিশোরের বেলায় মেডিকেল বোর্ড আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ার দুটি দিক থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর সাবেক এই উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘এক হয়তো সত্যিই চিহ্ন ছিল না। দ্বিতীয়ত, মেডিকেল বোর্ড দুর্নীতিগ্রস্ত।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘আমি যেহেতু প্রতিবেদন দেখিনি, তাই অনুমান করে এ বিষয়ে কথা বলাটা মুশকিল। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে যে বিষয়গুলো শুনি, সেখানে দুটো প্রেক্ষাপট থাকে। যিনি ভুক্তভোগী, তার স্বজনরা বলবে একভাবে, তারা বলবে আঘাত ছিল। আবার পুলিশের হাতে যদি নির্যাতিত হয়, তারা নিশ্চয়ই চাইবে না সেটা বের হোক। তখন তারা বলে যে, নির্যাতন করা হয়নি। চিকিৎসকেরা যখন কাজ করেন, তাদেরও প্রেক্ষাপট থাকে। একটা হচ্ছে পেশাদারিত্ব, অর্থাৎ তার দক্ষতা। আমাদের এমবিবিএসে ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়ে খুব সামান্যই ধারণা দেওয়া হয়ে থাকে, যা একজন চিকিৎসকের জন্যে যথেষ্ট নয়। যারা ফরেনসিক মেডিসিনে পোস্ট-গ্রেজুয়েশন করেন, তারা হয়তো শিখতে পারেন। আর কিছু প্রেক্ষাপট হচ্ছে চিকিৎসকের বায়াসড থাকা, কোনো কারণে প্রভাবিত হওয়া।’

অধ্যাপক বে-নজির আহমেদ বলেন, ‘অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ থাকে, অনৈতিকতাও থাকে। আবার যেসব চিকিৎসকেরা প্রতিবেদন করেন, তারা তো সরকারি চাকরি করেন। সেক্ষেত্রে তাদের বায়াসড হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। কারণ, কোনোকিছু যদি সরকারের বিপক্ষে যায়, তাহলে বিষয়টি তাদের জন্যে কঠিন।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছাত্রদলসহ দুই সংগঠনের নেতাদের বৈঠক
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর ভিত্তিহীন, সতর্কতা শিক্ষা…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ওয়াশিংটনে নৈশভোজে গুলি, কেমন আছেন ট্রাম্প?
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকায় সেমিনারে ‘ভিশন ফর আ বেটার বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতিপত্র উ…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী হত্যার ঘটনায় ডেইলি ক্যাম্প…
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬
২৫০০ টাকায় স্মার্টফোন দিতে চায় সরকার
  • ২৬ এপ্রিল ২০২৬