তারেক রহমান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
‘ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে’ বলে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের প্রতি নির্দেশনা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে ভোটার উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান এই নির্দেশনা দেন।
তারেক রহমান বলেন, যেদিন ভোট সেদিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে হবে। তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে যে যার ভোট কেন্দ্রের সামনে যাবেন। ওখানে গিয়ে সবাই মিলে ফজরের জামাত পড়বেন। ফজরের নামাজ জামাতে পড়ে একদম ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে যাবেন। যেহেতু আপনারা ধানের শেষে ভোট দিচ্ছেন। কেউ যাতে কোন ষড়যন্ত্র করতে না পারে। একদম ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিবেন, বাক্স পাহাড়া দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দিতে হবে। যাতে কেউ কোন এদিক-ওদিক করতে না পারে, ভোট ষড়যন্ত্র করতে না পারে। বোঝা গেছে ভাই কথা?
‘সবাই কি একমত এই কথার সঙ্গে’ প্রশ্ন করে তারেক রহমান জানতে চান, কে কে এটার সঙ্গে একমত? সমাবেশের উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বললে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন তারেক রহমান।
চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠে এই নির্বাচনী সমাবেশ উপলক্ষে বিকাল থেকে নেতা-কর্মীরা গ্রাম থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে সমবেত হয়। পুরো মাঠ কানা কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাগরিবের নামাজের আগেই।
কুমিল্লা-১১ আসন (চৌদ্দগ্রাম) এই আসনটি নানা কারণে এবার গুরুত্বপূর্ণ। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কামরুল হুদা। আর জামায়াতের প্রার্থী হচ্ছেন দলটির নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তারেক রহমান তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা সরকার গঠন করলে আমাদের দলের পরিকল্পনাগুলো সফল করতে চাই। কোন কোন ব্যক্তি গত দুই তিন দিন ধরে বলছেন, আমরা নাকি দেশের মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছি। এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন আপনারা কামরুলকে (কামরুল হুদা) চেনেন না? আমাকে তো চেনেন। আচ্ছা মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের লাভটা কি? কোনো লাভ আছে? আমাদেরকে তো আপনাদের কাছে আসতেই হবে। আমরা তো রাজনীতি করি। আপনার কাছে তো আমাদের আসতে হবে। দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আমাদের কোন লাভ আছে?
তিনি বলেন, বিএনপি তো আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে কয়েকবার দেশ পরিচালনা করেছে। করেছে না? একটা অভিজ্ঞতা আছে না? অভিজ্ঞতা যদি থাকে তাহলে কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেটাকে কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে সেটা জানে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে একমাত্র বিএনপি সেই রাজনৈতিক দল। যাদের অভিজ্ঞতা আছে যারা দেশ পরিচালনা করেছে এবং কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করলে সেটাকে কিভাবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতে হয় একমাত্র এটা বিএনপি জানে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামকে ‘শষ্য ভান্ডার এলাকা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীদের জন্য কৃষক কার্ড, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম-মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি সম্মানী প্রদান এবং তাদের জন্য অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে আগামীতে সরকার গঠন করলে চৌদ্দগ্রামে খাল খনন করতে আবার চৌদ্দগ্রাম আসার কথাও বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন তিনি কাশি দিচ্ছিলেন। লাল টুপি মাথায় পরিহিত তারেক বলেন, মাথার মধ্যে ঠান্ডা লাগছে, জ্বর আসছে তো। আমি জোরে কথা বলতে পারছি না। একটু শান্ত হয়ে মন দিয়ে শোনেন আমার কথাগুলো।
তিনি বলেন, তারা শুধু বিএনপির বদনামী করে যাচ্ছে। করুক আমার কোন আপত্তি নাই, আমাদের কোন আপত্তি নাই। আমরা ভাই আপনাদের জন্য, দেশের জন্য কি করতে পারব, কি করব, আমরা সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা মানুষের ভোট পেলে আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা ওয়ান- টু- থ্রি করে আমাদের কাজগুলো করতে থাকব। কে কি বলল আমাদের যায় আসে না।
এরপর কুমিল্লার সোয়াগাজী ডিগবাজি মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। এখানে কুমিল্লা ও চাঁদপুর আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
তারেক রহমান এই নির্বাচনি সমাবেশে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কী কী পরিকল্পনা করেছে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করতে চান তার একটি চিত্র তুলে ধরেন। এজন্য তিনি ধানের শীষ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমানের দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনি প্রচারাভিযানের চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দান, ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম খেলার মাঠ ও সোয়াাগাজী ডিগবাজি মাঠে বক্তব্য রাখেন। এ রাতেই কুমিল্লার দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ এবং নারায়নগঞ্জের বালুর মাঠেও বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারম্যান।