প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ থেকে ৩০ পর্যন্ত প্রকাশিত নতুন জাতীয় খাদ্য নির্দেশিকায় চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়ার পাশাপাশি বেশি প্রোটিন ও ‘স্বাস্থ্যকর চর্বি’ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ এবং কৃষি বিভাগ যৌথভাবে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করে। নতুন নির্দেশিকাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন‘ আন্দোলনের দর্শনের প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন নির্দেশিকায় একটি উল্টো খাদ্য পিরামিড দেখানো হয়েছে যেখানে ওপরের প্রশস্ত অংশে রাখা হয়েছে মাংস, দুগ্ধজাত খাবার ও সবজি। এটি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ‘মাইপ্লেট’ বা বৃত্তাকার খাদ্যচিত্রের বিপরীত ধারণা।
কী আছে নতুন নির্দেশিকায়?
প্রোটিন: শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন প্রতি কেজিতে ১ দশমিক ২ থেকে ১ দশমিক ৬ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ৬৫ থেকে ৭৯ কেজি ওজনের একজন মানুষের ক্ষেত্রে এটি দিনে প্রায় ৮২ থেকে ১০৯ গ্রাম।
দুগ্ধজাত খাবার: প্রথমবারের মতো পূর্ণচর্বিযুক্ত (ফুল-ফ্যাট) দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো, এতে যেন অতিরিক্ত চিনি না থাকে। দিনে তিন বেলার দুগ্ধজাত খাবার সুপারিশ করা হয়েছে।
শস্য ও আঁশ: নির্দেশিকায় ফাইবারসমৃদ্ধ সম্পূর্ণ শস্য দিনে ২ থেকে ৪ বার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাদা পাউরুটি, ময়দার টর্টিলা ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট কমাতে বলা হয়েছে।
ফল ও সবজি: প্রতিদিন ৩ বেলা সবজি ও ২ বেলা ফল খাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এতে। টাটকা ছাড়াও কম চিনি বা চিনি ছাড়া হিমায়িত, শুকনো বা ক্যানজাত ফল ও সবজি গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।
চর্বি: অলিভ অয়েলের মতো প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ তেলকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সীমিত পরিমাণে মাখন বা গরুর চর্বি (বিফ ট্যালো) ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে কড়া অবস্থান
নির্দেশিকায় চিপস, বিস্কুট, ক্যান্ডি, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি যুক্ত প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। বাড়িতে রান্না করা পুষ্টিকর খাবারকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে, এমনকি বাইরে খাওয়ার সময়ও স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিশু, অ্যালকোহল ও স্কুল খাবার
শিশুদের ক্ষেত্রে: প্রথম ৬ মাস মাতৃদুগ্ধ বা আয়রনযুক্ত ফর্মুলা, ১২ মাসের পর ফর্মুলা বন্ধ এবং ১০ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়তি চিনি এড়িয়ে চলার নির্দেশনা।
অ্যালকোহল: আগের মতো নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমা নেই, তবে ‘কম খেলেই ভালো‘ এই বার্তা বজায় রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতভেদ
আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (এএমএ) ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (এএইচএ) চিনি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, লাল মাংস, পূর্ণচর্বিযুক্ত দুগ্ধ ও লবণ ব্যবহারে বাড়তি জোর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
হার্ভার্ডের পুষ্টিবিদ ড. ওয়াল্টার উইলেট সতর্ক করে বলেন, ‘এ ধরনের নির্দেশিকা অতিরিক্ত লাল মাংস ও দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণে উৎসাহ দিতে পারে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুটোর জন্যই ক্ষতিকর।‘ [সিএনএন]