নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে এমইউএন অ্যালার্ট নিয়ে অনুষ্ঠান © সৌজন্যে প্রাপ্ত
নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার এবং জনসাধারণের তাৎক্ষণিক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ের জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থার নাম মিসিং আর্জেন্ট নটিফিকেশন (এমইউএন অ্যালার্ট)। একইসাথে, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত ২৪/৭ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পুলিশের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে সিলেটে পাঁচ বছর বয়সী শিশু মুনতাহা আক্তার নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি দ্রুত, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে। এই বাস্তবতার আলোকে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিন্যাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-এর মিসিং সেলের নেতৃত্বে এবং জিরো মিসিং চিল্ডেন প্লাটফর্মের কারিগরি ও সমন্বয় সহায়তায় প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এমইউএন অ্যালার্ট ব্যবস্থা, যেখানে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সমন্বয় সহায়তার জন্য আম্বার অ্যালার্টফর বাংলাদেশ টিম যুক্ত হয়েছে।
এতে বলা হয়, এমইউএন অ্যালার্টের আওতায় কোনো শিশু নিখোঁজ বা অপহৃত হওয়ার যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা দেখা দিলে, যাচাইকৃত তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি কর্তৃক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হবে। এই সতর্কবার্তা অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল বিলবোর্ড, প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল এসএমএস/সেল ব্রডকাস্টিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর মাধ্যমে প্রচার করা হবে, যাতে সাধারণ জনগণ দ্রুত তথ্য দিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। পুরো প্রক্রিয়ায় শিশুর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।
আরও পড়ুন: জুলাই ঐক্যের ‘মার্চ টু ইলেকশন কমিশন’, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
সেবা নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, মিসিং চিলড্রেন সেল-01320017060 অথবা টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এ জানানো যাবে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সতর্কবার্তা জারি, স্থগিত বা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে সিআইডির মিসিং চিলড্রেন সেলের ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম বা শিশু পাচারের আশঙ্কা দেখা দিলে ইন্টারপুলের মাধ্যমে ইয়েলো নোটিশ জারির ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।
সেবাটি বাস্তবায়নের বিষয়ে বলা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে আম্বার অ্র্যালার্ট পরিচালনাকারী সংস্থা এনসিএমইসি (ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং এন্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন) এবং মেটার (ফেসবুক) সহযোগিতায়, সিআইডি ও জিরো মিসিং চিলড্রেন প্লাটফর্মের সমন্বয়ে এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এমইউএন অ্যালার্ট চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশে নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে একটি রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে, যা শিশু সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থার ধারণাটি গুরুত্ব পায় ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু অ্যাম্বার হ্যাগারম্যান অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয় আম্বার অ্র্যালার্ট ব্যবস্থা, যা পরবর্তীতে ইউরোপের ৩২টি দেশ এবং মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন, নাইজেরিয়া, কেনিয়া ও পাকিস্তানসহ বহু দেশে নিজস্ব আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, নিখোঁজ শিশুর ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়-এই সময়ে দ্রুত ও যাচাইকৃত সতর্কবার্তা জারি করা গেলে শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।