আতলেতিকো মাদ্রিদের উদযাপন © সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে হোঁচট খেল বার্সেলোনা। কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদর কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনালে ওঠার পথে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।
বুধবার রাতে নিজেদের মাঠে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের ঝড় তুলেও গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। উল্টো প্রথমার্ধে হুলিয়ান আলভারেস এবং দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে আলেকসান্দার সরলথর গোলেই জয় তুলে নেয় দিয়েগো সিমেওনের দল।
এই জয়ে দীর্ঘ ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে হারাল আতলেতিকো। কোচ হিসেবে ১৯ বারের চেষ্টায় এই প্রথম বার্সার ঘরের মাঠে প্রথম জয়ের দেখা পেলেন দিয়েগো সিমেওনে।
চার দিন আগেই লা লিগায় আতলেতিকোর মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল বার্সেলোনা। কিন্তু ইউরোপের মঞ্চে ঘরের মাঠে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। বরং ক্যাম্প নউয়ে টানা ১৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রাও থেমে গেল।
ম্যাচে বল দখল ও আক্রমণে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল বার্সেলোনার। ৫৮ শতাংশ পজেশন রেখে ১৮টি শট নেয় তারা, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে আতলেতিকোর পাঁচ শটের তিনটিই লক্ষ্যে ছিল।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় মিনিটেই সুযোগ পান মার্কাস র্যাশফোর্ড, কিন্তু তার শট সহজেই ঠেকান গোলরক্ষক। এরপর একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও ইয়ামাল ও র্যাশফোর্ডরা তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।
৩০ মিনিটের পরও চাপ ধরে রাখে স্বাগতিকরা। কিন্তু ৪৩তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় তারা। বক্সের বাইরে ফাউলের জন্য প্রথমে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিডিও দেখে পাউ কুবার্সিকে সরাসরি লাল কার্ড দেন রেফারি।
এই ফ্রি-কিক থেকেই দারুণ এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন আলভারেস। তার নেওয়া শট ডান দিকের ওপরের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে নিজের নবম গোল করেন তিনি, যা ক্লাবের হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয়ার্ধে ১০ জন নিয়ে খেলেও আক্রমণের ধার কমায়নি বার্সেলোনা। ৫০তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পান র্যাশফোর্ড, কিন্তু গোলরক্ষককে কাটিয়ে দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া তার শট জালে না গিয়ে পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
ক্রমাগত চাপ তৈরি করেও গোল না পেয়ে উল্টো ৭০তম মিনিটে আরেকটি গোল হজম করে বার্সেলোনা। বাম দিক থেকে আসা ক্রসে বক্সে ভলি শটে বল জালে পাঠান বদলি নামা সরলথ।
শেষ সময় পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে গেলেও গোলের দেখা পায়নি বার্সেলোনা। ল্যামিনে ইয়ামালর কর্নার থেকে রোনাল্দ আরাউহোর হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় ফিরতি লেগ অনুষ্ঠিত হবে। দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা বার্সেলোনার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একই মাঠে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৪-০ গোলে হারার স্মৃতিও ভাবাচ্ছে ফ্লিকের দলকে।