এনজো মারেস্কা © সংগৃহীত
ফুটবল অঙ্গনে নাটকীয়তার যেন শেষ নেই। যার হাত ধরে কয়েক সপ্তাহ আগেও সাফল্যের স্বপ্ন দেখছিল চেলসি, সেই ইতালিয়ান কোচ এনজো মারেস্কার সঙ্গেই পথচলা শেষ করল ক্লাবটি। গত নভেম্বরে প্রিমিয়ার লিগের মাসসেরা কোচের পুরস্কার জেতা মারেস্কাকে বৃহস্পতিবার বরখাস্তের ঘোষণা দেয় ব্লুজ কর্তৃপক্ষ। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে ভাগ্যের এমন নির্মম পরিহাসে ফুটবল ভক্তরা বেশ অবাক হয়েছেন। মূলত শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একটি জয় এবং শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে পড়াই মারেস্কার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
২০২৪ সালে লেস্টার সিটিকে প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনার পর চেলসির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মারেস্কা। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তার শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম মৌসুমে একঝাঁক তরুণ ও দামী ফুটবলারকে নিয়ে দলকে লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে তুলেছিলেন তিনি। তার অধীনেই চেলসি জিতেছিল কনফারেন্স লিগ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপাও। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ক্লাবটি বড় কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের পর থেকেই ছন্দপতন শুরু হয় এবং শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে দলটি ১৫ পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ে।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের কিছু রহস্যজনক মন্তব্য মারেস্কার বিদায়কে ত্বরান্বিত করেছে। এভারটনের বিপক্ষে জয়ের পর তিনি নিজের কোচিং জীবনের ‘সবচেয়ে খারাপ ৪৮ ঘণ্টা’ পার করার কথা বললেও বিষয়টি পরিষ্কার করেননি। সর্বশেষ বোর্নমাউথের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়ার ম্যাচে দলের সেরা তারকা কোল পালমারকে তুলে নিলে গ্যালারিতে দর্শকদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। শেষ বাঁশির পর দর্শকদের দুয়ো ধ্বনিই যেন বুঝিয়ে দিয়েছিল যে মারেস্কার সময় শেষ হয়ে এসেছে।
চেলসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চারটি প্রতিযোগিতায় এখনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বাকি আছে এবং দলকে সঠিক পথে ফেরাতেই এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত দেড় বছরেই শেষ হলো মারেস্কা অধ্যায়। আগামী রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বড় ম্যাচের আগে এখন দেখার বিষয়—কে ধরছেন চেলসির হাল।