ডাব ও ঘোল © সংগৃহীত
বৈশাখের অসহ্য গরমে রাস্তায় বেরোলেই যেন শরীরের সব শক্তি শুকিয়ে যাচ্ছে। গরম হাওয়া আর তীব্র রোদের কারণে সামান্য হাঁটাচলাতেই ঘাম ঝরছে, গলা শুকিয়ে খটখটে হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় হাইড্রেটেড থাকতে অনেকেই হাত বাড়াচ্ছেন নানা ধরনের পানীয়ের দিকে—কেউ ডাবের জল, কেউ আবার দইয়ের ঘোল বা লস্যি।
এই দুই পানীয়ই শরীরকে তাৎক্ষণিকভাবে সতেজ করে তোলে এবং তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে প্রশ্ন হলো, এই তীব্র গরমে বাইরে বের হলে ডাবের পানি না ঘোল—কোনটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী?
গরমকালে ডাবের জল খেলে কী হয়?
ডাবের জল নিঃসন্দেহে উপকারী। চিকিৎসক থেকে পুষ্টিবিদ, প্রত্যেকে এই গরমে ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। ডাবের জলে ক্যালোরির পরিমাণ কম আর পর্যাপ্ত পটাশিয়ামও পাওয়া যায়। তাই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে এই পানীয়।
ঘোল কতটা উপযোগী স্বাস্থ্যের জন্য?
গরমকালের শরীরকে চাঙ্গা রাখে ঘোল। শরীরকে ঠান্ডা রাখে এই পানীয়। ঘোল ও লস্যি হলো প্রোবায়োটিক পানীয়। গরমকালে পেটের সমস্যা দূরে রাখে এই পানীয়। তা ছাড়া এতে বিটনুন, জিরে গুঁড়ো ইত্যাদি মেশানো হয়। এগুলো ঘোলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তোলে। হাইড্রেশন জোগানোর পাশাপাশি অন্ত্রেরও যত্ন ঘোল বা লস্যি।
পুষ্টির দৌড়ে কে এগিয়ে?
১০০ মিলি ডাবের জলে ২৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১০৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৯ ক্যালোরি এবং ৪.৫ গ্রাম প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে।
অন্যদিকে, ১০০ মিলি ঘোলে ৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪০ ক্যালোরি, ১২০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ৪.৮ কার্বোহাইড্রেট, ১.৫ গ্রাম ফ্যাট এবং ৫০-৬০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম রয়েছে।
পুষ্টির দৌড়ে কে এগিয়ে?
১০০ মিলি ডাবের জলে ২৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ১০৫ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১৯ ক্যালোরি এবং ৪.৫ গ্রাম প্রাকৃতিক শর্করা রয়েছে।
অন্যদিকে, ১০০ মিলি ঘোলে ৩ গ্রাম প্রোটিন, ৪০ ক্যালোরি, ১২০ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম, ৪.৮ কার্বোহাইড্রেট, ১.৫ গ্রাম ফ্যাট এবং ৫০-৬০ মিলিগ্রাম সোডিয়াম রয়েছে।
ডাবের জল নাকি ঘোল, কোনটা বেছে নেবেন?
বাড়িতে থাকতে ঘরে পাতা টকদই দিয়ে লস্যি বা ঘোল বানিয়ে খেতে পারেন। পেটের সমস্যায় ভুগলেও এই পানীয় দারুণ উপযোগী।
রাস্তায় বেরোলে ডাবের জল খেতে পারেন। তবে প্যাকেটবন্দি ডাবের জল নয়। সবুজ কচি ডাবের জল খাওয়ার চেষ্টা করুন।
কোন পানীয় কখন খাবেন?
ব্রেকফাস্টের পরে বা দুপুর খাওয়ার শেষে ঘোল খেতে পারেন। এই পানীয়তে প্রোটিন থাকায় এই পানীয় পেটও ভরায়।
ডাবের জল খালি পেটে খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার মেলে। এ ছাড়া দিনের বেলায় রাস্তায় বেরোলে ডাবের জল খেতে পারেন।
গরমে এই দুই পানীয়ই খেতে পারেন। শুধু একসঙ্গে না খেলেই হলো। কোনওটা ব্রেকফাস্টের পর খান, আবার কোনওটা দুপুরবেলা।