পচা কলা © সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের উন্নতমানের খাবার দেওয়ার কথা থাকলেও, পচা ও নিম্নমানের কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলার অনুরাগ, গৌরীপাশা ও পুরান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে খাওয়ার অনুপযোগী পচা কলা বিতরণকে কেন্দ্র করে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের তোপের মুখে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধের মধ্যে অন্তত দুটি উপাদান থাকা বাধ্যতামূলক। তবে গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এই এলাকায় কর্মসূচিটি চালুর পর থেকেই খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’-এর চালানে ১২০ গ্রামের বনরুটি, ১০০ গ্রামের কলা ও ৬০ গ্রামের সেদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অত্যন্ত নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় কোমলমতি শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
এ বিষয়ে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় এজেন্টদের ওপর দায় চাপানো হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় এজেন্ট সজল ফকির অভিযোগ স্বীকার না করে জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রচুর পরিমাণে কলা পরিবহনের সময় কিছু কলায় দাগ পড়তে পারে। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করায় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার জানিয়েছেন, পচা বা নিম্নমানের খাবার দিলে তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।