রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
সম্প্রতি প্রকাশিত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) গবেষণা মঞ্জুরি সংক্রান্ত নীতিমালা ও পদ্ধতির নথিতে গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে গবেষকদের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা চালুর তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এ নথিতে গবেষণা অনুদানের উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ ও বৃদ্ধির পাশাপাশি গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের এ নীতিমালা অনুযায়ী, গবেষণায় অবদান রাখা শিক্ষকদের স্বীকৃতি দিতে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর’স রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হবে। এই পুরস্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সক্রিয় শিক্ষকরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এখানে ‘সক্রিয়’ বলতে আবেদনকারী শিক্ষককে যে অর্থবছরে পুরস্কার দেওয়া হবে, তার পূর্ববর্তী অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করে পাঠদান ও গবেষণায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
প্রতিবছর ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আগ্রহী গবেষক শিক্ষকদের নিকট থেকে আবেদন আহ্বান করা হবে। আবেদনকারীরা বিগত এক অর্থবছরে তাদের গবেষণা বিষয়ক অর্জনের তথ্য সরাসরি বা অনলাইনে জমা দিতে পারবেন।
এই পুরস্কারের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের জন্য ৪টি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ইনস্টিটিউটের জন্য একটিসহ মোট ৫টি পুরস্কার প্রদান করা হবে। যদি একাধিক গবেষণা পত্রের ইনডেক্স নাম্বার ও ইনডেক্স ফ্যাক্টর একই হয়, তবে যেটির লেখকসংখ্যা কম হবে সেটি পুরস্কারের জন্য অগ্রাধিকার পাবে। লেখক সংখ্যাও সমান হলে পুরস্কার যৌথভাবে প্রদান করা হবে। একইভাবে পেটেন্ট, গবেষণা প্রকল্প ও থিসিসের ক্ষেত্রেও যথাযথ মেধা বিবেচনা করা হবে। একই ক্যাটাগরিতে একাধিক গবেষক যোগ্যতা অর্জন করলে একটি অবস্থানে একাধিক পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে, তবে সে ক্ষেত্রে প্রাইজমানির অর্থ সমানভাবে বণ্টন করা হবে।
এই পুরস্কারের জন্য পেটেন্ট, জার্নাল প্রকাশনা, গবেষণা প্রকল্প বা থিসিস— যেকোনো একটি ক্ষেত্র বিবেচনায় নেওয়া হবে। একজন আবেদনকারী একাধিক ক্ষেত্রে যোগ্য হলেও যেকোনো একটি ক্ষেত্রের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করতে হলে গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তর নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র— যেমন পেটেন্ট, জার্নাল প্রকাশনা, থিসিস বই বা সংশ্লিষ্ট সনদ সংযুক্ত করতে হবে।
এই অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রাইজমানি হিসেবে ১ লক্ষ টাকা, সনদপত্র এবং ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। তবে একজন শিক্ষক একবার এই পুরস্কার লাভ করলে পরবর্তী দুই বছর তিনি পুনরায় এ পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন না।
এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি। রুয়েটের গবেষণা কার্যক্রমকে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এ খাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং পুরস্কার-সম্মাননার নীতিমালা প্রণয়ন সময়োপযোগী পদক্ষেপ ছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কিউএস র্যাংকিং নির্ধারণে গবেষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই বিবেচনায় রুয়েটের অবস্থান বিশ্বব্যাপী আরও অগ্রসর করতে গবেষণার পরিধি ও মান বৃদ্ধির ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।
উপাচার্য বলেন, এর মাধ্যমে উচ্চমানের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ ও সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর গবেষকরা আরও উৎসাহ পাবেন। আমরা আশা করি, এসব উদ্যোগের ফলে রুয়েটে গবেষণার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের গবেষণা অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘লাইফ টাইম রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী শিক্ষকরা এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন। এ পুরস্কারের জন্য যোগ্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে তার সমগ্র শিক্ষকতা জীবনে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মোট ন্যূনতম ১ কোটি টাকার গবেষণা অনুদান, প্রকাশিত গবেষণাপত্রের মোট ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর ২০০ এবং স্কোপাস ডাটাবেজ অনুযায়ী কমপক্ষে ৫ হাজার সাইটেশন অর্জন করতে হবে।
এসব পুরস্কার ও সম্মাননা চালুর মাধ্যমে রুয়েটে গবেষণা সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষক ও গবেষকরা উদ্ভাবনী কার্যক্রমে উৎসাহিত হবেন বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।