রুয়েটে যৌন হয়রানির দায়ে এক শিক্ষার্থী আজীবন বহিষ্কার, ৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩ PM
‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত

‎রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েটে) নারী সহপাঠীদের নিয়ে বিভাগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে যৌন হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গোপনে ছবি ধারণের অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশের পর একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় ডিসিপ্লিনারি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার এ-সংক্রান্ত কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্তে বিষয়টি জানান।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী হলেন কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সুমন মজুমদার (ছাত্র আইডি: ২৪০৩১২৯)।

‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, যৌন হয়রানি-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রুয়েটের ডিসিপ্লিনারি অর্ডিন্যান্সের ৬নং ধারায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সুমন মজুমদারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৮ (আট) জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে হয়রানিতে সহযোগিতার অভিযোগে তিন শিক্ষার্থীকে তিন শিক্ষাবর্ষের জন্য এবং উস্কানিদাতা পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে আটজনকে আজীবনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের চারিত্রিক সনদ (ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট) প্রদান করবে না বলেও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

‎ঘটনার প্রেক্ষাপটে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীসহ সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। অভিযোগ ওঠার পরপরই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রুয়েট নারী শিক্ষার্থী হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার; ক্যাম্পাসে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই।’

‎উল্লেখ্য, এর আগে অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্বের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বহিষ্কারের দাবিতে কম্পিউটার প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন। শিক্ষার্থীরা সে সময় অভিযোগ করেন, তদন্তের ফলাফল প্রকাশে দেরি হওয়ায় ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আন্দোলনের সময় ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিয়েছিল।

‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নারী সহপাঠীদের নিয়ে বিভাগের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে যৌন হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গোপনে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকা ও তাঁদের পরিবার নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগ ছিল। ভুক্তভোগীরা প্রথমে বিভাগীয় প্রধান এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

‎বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নারী শিক্ষার্থী হয়রানির মতো ঘটনায় শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

আনোয়ারায় নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি, চাপে সাধারণ মানুষ
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসচাপায় প্রাণ গেল মা-ছেলের
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এবার নতুন চাকরিতে যোগ দিলেন আজাদ মজুমদারও
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের নতুন সভাপতি মেহেদী, সেক্রেটারি ন…
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাজেটে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক সন্ধ্যায়
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
X
APPLY
NOW!