মো. তাসরীব আহমেদ মাহিন © সংগৃহীত
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক শিক্ষার্থী গত ২ আগস্ট (রোববার) সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মো. তাসরীব আহমেদ মাহিন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম) বিভাগের ২০২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
সহপাঠীদের ধারণা, সম্প্রতি ডিফেন্সে নির্বাচিত না হওয়ার হতাশা থেকেই তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় আগে তিনি নিজের জন্মতারিখ ও বর্তমান তারিখ উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি স্টোরি শেয়ার করেন। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পরিবারের সদস্য, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার সন্ধানে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মহিরুজ্জামান উপল জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর সে হল থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তার সর্বশেষ লোকেশন নওয়াপাড়া রেল স্টেশনের আশপাশে শনাক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সে প্রায় ৩০টি নাপা ট্যাবলেট সেবন করেছে।
২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এ ঘটনায় খান জাহান আলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। পুলিশ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা যায়, তাসরীব আহমেদ মাহিন পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় বসবাস করতেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা না গেলেও, তার বাবার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠীরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
এ বিষয়ে আরেক শিক্ষার্থী রাহাতুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তার বাবা খুবই উদ্বিগ্ন। রাত থেকেই তিনি কান্নাকাটি করছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে মাহিনের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরে আসার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টরা। তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।