উপাচার্যের আশ্বাসের পর
রুয়েট © টিডিসি ফটো
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) উত্তরপত্র মূল্যায়নে 'ইউনিক কোডিং সিস্টেম' চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১২ দফা দাবি পেশ করার দেড় বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানানো হলেও দীর্ঘ সময়ে তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর সংশয় ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বুয়েট ও চুয়েটসহ দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পদ্ধতি চালু থাকলেও রুয়েট প্রশাসন কেবল আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, কোডিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে আদৌ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কি না।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট, যখন রুয়েট শিক্ষার্থীরা তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে ১২ দফা দাবি পেশ করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার গুঞ্জন উঠলে আন্দোলন আরও বেগবান হয়। ১৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ইউনিক কোডিং সিস্টেমসহ অন্যান্য দাবি নিয়ে তুমুল কর্মসূচি শুরু হলে বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এরপর ২৬ জুলাই লাইব্রেরির সামনে শেষবারের মতো বড় আন্দোলন হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক স্তরে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
এই দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনের অবস্থান সম্পর্কে ১২ দফা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক শিক্ষার্থী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, '৫ই আগস্ট পরবর্তী রুয়েট প্রশাসনের নিকট ১২ দফা দাবির অন্যতম একটি ছিলো কোডিং সিস্টেমের প্রবর্তন। ইতিপূর্বে শিক্ষকদের বিরাগভাজন হয়ে একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ হওয়া এবং এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটেছে। তাই কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি শিক্ষার্থীদের একটি ন্যায্য দাবি। অন্য দাবিগুলোর মতো রুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই দাবিও পূরণ করতে ব্যবস্থা নিবে বলে আমি বিশ্বাস করি।' শিক্ষার্থীদের মতে, এই পদ্ধতি চালু হলে উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আসবে এবং ব্যক্তিগত রোষানলের সুযোগ বন্ধ হবে।
একই বিষয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন নাহিদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, '২০২৪ এর ৫ই আগস্টের পর প্রশাসনের কাছে দেওয়া আমাদের ১২ দফা দাবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দফাও ছিল এটি। এই দাবি নিয়ে প্রশাসনের সাথে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচির সময় আমাদের দ্রুত চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো আমরা কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাইনি। আমরা আশা করি রুয়েট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক এই দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত কোডিং সিস্টেম চালুর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।'
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রুয়েট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দফতরের পরিচালক তাইহেদ আরিফ খান চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে কোডিং সিস্টেম নিয়ে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। উক্ত কমিটি তাদের তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ শেষে রিপোর্ট পেশ করলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জানানো সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।