রাবিপ্রবিতে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ © সংগৃহীত
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সব ধরনের ‘দলীয় রাজনীতি’ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তের আলোকে সম্প্রতি ‘সংশোধিত প্রক্টরীয় ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫’ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
প্রকাশিত নীতিমালার ‘৬ এর খ’ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এবং ছাত্র/ছাত্রীদের আবাসিক হলে দলীয় লেজুর ভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা জড়িত থাকতে পারবে না।’ এই নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রচার, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার, প্রতীক বা পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন না। এমনকি কোনো রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো সভা, সমিতি কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের কোনো প্রয়োজন বা দাবি থাকলে তারা ‘অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের’ মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানিয়েছে, এই বিধান লঙ্ঘন করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নীতিমালার ১১ নং ধারা অনুযায়ী, নিয়ম অমান্য করার শাস্তি হিসেবে সতর্কীকরণ, অভিভাবকসহ মুচলেকা, অর্থদণ্ড এবং অপরাধের মাত্রাভেদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে শৃঙ্খলা বোর্ড। কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের এই ধরনের নিয়ম ভাঙতে দেখা গেলেই এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১ এর ৩৪ (১) ধারা অনুসারে এই ‘শৃঙ্খলা বোর্ড’ গঠিত হবে। ভাইস-চ্যান্সেলর বা তার মনোনীত কোনো ব্যক্তি এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বোর্ডে আরও থাকবেন একাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত ডিন, দুজন বিভাগীয় চেয়ারম্যান, দুটি হলের প্রভোস্ট, রিজেন্ট বোর্ডের একজন সদস্য, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক এবং প্রক্টর, যিনি সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও প্রশাসন পড়াশোনার পরিবেশ রক্ষায় একে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।