রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) প্রক্টরীয় ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
গতকাল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই নীতিমালা প্রকাশ করার পর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা একে একপেশে ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই নীতিমালার কঠোর সমালোচনা করে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন, এমনকি কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্কুলের সঙ্গেও তুলনা করছেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান আপত্তি নীতিমালার ‘দ’ নং ধারা নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে— কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে যেকোনো উদ্দেশ্যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে তা চূড়ান্ত শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।
এই ধারার সমালোচনা করে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দ- নং অনুচ্ছেদে শুধু কর্মকর্তা, শিক্ষক, এবং কর্মচারীদের পক্ষে লেখা হয়েছে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর অন্যায় হলেও সেখানে শিক্ষার্থীরা চুপ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে আইন বানাবে সেটা আমরা মেনে নিব না।’ এ ছাড়া নীতিমালার ১৬ নং ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, নীতিমালায় নেই এমন যেকোনো বিষয়ে উপাচার্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। এর ফলে সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উপাচার্য পৌঁছে গেছেন বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সিএসই কম্পিউটার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহবাজ বিন সিরাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত ছিল সংস্কৃতি, শিক্ষা, গবেষণা, রাজনীতি, মুক্তচিন্তা, শিল্প আর সাহিত্য চর্চার কারখানা। তা না হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আজ স্রেফ একটা 'স্ট্রাকচারাল বিনোদন কেন্দ্র' হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা বহিরাগত আর চাকরিজীবীদের মনে প্রশান্তি দিলেও শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাদ দিচ্ছে না।’ এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লেজুড়বৃত্তি রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও অভিযোগ দায়েরের জন্য যে অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কথা বলা হয়েছে, তার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদ ও তীব্র সমালোচনার মুখে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করতে এগিয়ে এসেছেন রাবিপ্রবি প্রক্টর সাদ্দাম হোসেন। তিনি নিজের ফেসবুক ওয়ালে শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘যে-কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে কিছু শৃঙ্খলা নীতিমালা বা নিয়ম কানুন সূচনালগ্ন থেকে কাগজে কলমে থাকতে হয়। সব কিছুর প্রয়োগ যে কঠোরভাবে হয় তা কিন্তু না। রাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরাও তার বিকল্প নয়। আশা করি বিষয়টি আমি ক্লিয়ার করতে পেরেছি।’
প্রক্টর আরও উল্লেখ করেন যে, এসব নীতিমালা মাঝে মাঝে সংশোধন করার সুযোগ থাকে এবং প্রয়োজনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে কমিটি যেকোনো সময় এই নীতিমালা পরিবর্তন করতে পারবে।