পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা হল © টিডিসি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিসি ক্যামেরা সচল থাকা সত্ত্বেও একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে স্বাধীনতা হল থেকে শিক্ষার্থীদের সাইকেল, মোটরসাইকেলের হেলমেট, নিউজপেপার রুম থেকে পত্রিকা, বিভিন্ন ফ্লোরের বাল্ব, এমনকি শিক্ষার্থীদের জুতাও চুরি হয়েছে। এসব ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনায় পুরো হলে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে গণরুমে একের পর এক বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নগদ অর্থ চুরি হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর দামি ব্যবহৃত হেডফোন, ট্রাউজার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
পাশাপাশি তিনজন শিক্ষার্থীর তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনও চুরি হয়েছে। ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী হলেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সিমরান এবং ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আনিসুর ও গোলাম মোস্তফা।
ভুক্তভোগী গণরুমের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের রুম থেকে আমার মোবাইলসহ মোট তিনজনের মোবাইল চুরি হয়েছে। যেদিন চুরি হয়, সেদিন আমি রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত পড়াশোনা করে ঘুমাতে যাই। ঘুমানোর সময় আমার মাথার পাশেই মোবাইলটি চার্জে লাগানো ছিল। কিন্তু ভোরে উঠে দেখি মোবাইলটি আর নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষয়টি শিক্ষকসহ কয়েকজনকে জানাই এবং পরে পাবনা থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি পাইনি।’
এ বিষয়ে হল কর্মকর্তা বলেন, ‘হলের সব সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে এবং গণরুমে চুরির বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অবগত। এ ঘটনায় কোনো বহিরাগত জড়িত নয়। আমাদের ধারণা, হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই কেউ এই চুরি করেছে। তবে গণরুমের ভেতরে সিসি ক্যামেরা না থাকায় কাউকে নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করা যাচ্ছে না।’
এদিকে সিসি ক্যামেরার দায়িত্বে থাকা সহকারী হল প্রভোস্ট নিতুন কুমার পোদ্দার বলেন, ‘হলের সব সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে গণরুমের ভেতরে কোনো ক্যামেরা বসানো হয়নি। তবে গণরুমের বাইরে থাকা ক্যামেরাগুলোর ফুটেজে মোবাইল চুরির ঘটনার আগের রাতে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদেরই চলাচল দেখা গেছে, কোনো বহিরাগতকে নয়। যেহেতু চুরির ঘটনাটি গণরুমের ভেতরে ঘটেছে, তাই এখন পর্যন্ত কাউকে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’
একাধিকবার চুরির ঘটনায় স্বাধীনতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা, গণরুম ও আশপাশে পর্যাপ্ত নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।