শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন © ফাইল ছবি
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে, কিন্তু বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এই জনসংখ্যা কোনো জাতির জন্য অভিশাপ নয় বরং যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে পরিণত করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের খেলার মাঠে আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। অতীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ ব্যয় করা হলেও এবার তা ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘চলতি অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগে ছিল ৮৭ হাজার কোটি টাকা।এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগে ছিল প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ হাজার কোটি টাকা, যা আগে ছিলো ৩১ হাজার কোটি টাকা।’
আরও পড়ুন : বাদ যাচ্ছে ১০-১৫ শতাংশ সুবিধা, ৫০ শতাংশ বেসিক বৃদ্ধিতে কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে?
শিক্ষামন্ত্রী বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, ‘শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এর মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
বর্তমান প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য শিক্ষাখাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের ক্ষেত্র। বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে যাচ্ছে।’