শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুদান দেবে সরকার। এ জন্য আবেদন আহবান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুদানের জন্য আবেদন করা যাবে। উপসচিব মোহাম্মদ মাহমুদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত পরিচালন বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ মঞ্জুরি হিসেবে বরাদ্দকৃত অর্থ উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে বিতরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে।
উক্ত নীতিমালা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, সকল জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবরে বিতরণসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে (www.tmed.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত শর্তে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।
দেশের সকল সরকারি/বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংযুক্ত/স্বতন্ত্র (অনুদানপ্রাপ্ত/ অনুদানবিহীন) এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত/এমপিওভুক্ত সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র তৈরি, খেলাধুলার সরঞ্জাম ক্রয়, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান গড়ার নিমিত্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং পাঠাগারের উন্নয়ন কাজের জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথচ প্রতিষ্ঠানের লেখাপড়ার মান ভাল এরূপ প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে; দেশের সকল সরকারি/বেসরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সংযুক্ত/স্বতন্ত্র (অনুদানপ্রাপ্ত অনুদানবিহীন) এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও স্বীকৃতি প্রাপ্ত/এমপিওভুক্ত সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী তাদের জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ এবং দৈব দুর্ঘটনার জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবেন।
সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জটিল ও ব্যয়বহুল রোগ, দৈব দুর্ঘটনা এবং শিক্ষা ব্যয় নির্বাহের জন্য মঞ্জুরির আবেদন করতে পারবেন। তবে এ বিশেষ মঞ্জুরি প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মেধাবী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।
আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে (www.tmed.gov.bd) ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদানের আবেদন ফরম’ বাটনে ক্লিক করে www.mygov.bd থেকে অনলাইনে আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
প্রাপ্ত আবেদনসমূহ জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ বরাবর প্রেরণ করবে। সরকারি/বেসরকারি কারিগরি/মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের অনুদানের আবেদনের ক্ষেত্রে নীতিমালায় (নীতিমালাটি www.tmed.gov.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে) উল্লিখিত সুনির্দিষ্ট কারণসহ আবেদন করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতি এবং শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রত্যয়িত প্রমাণকপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে (প্রত্যয়নের নমুনা অনলাইনে দেয়া থাকবে); কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান প্রাপ্তির জন্য স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক আবেদন করতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী ক্যাটাগরিতে অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে; আবেদন করার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক মাইগভ প্লাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রদত্ত মোবাইল নম্বরটি ব্যানবেইসের সর্বশেষ বার্ষিক শিক্ষা জরিপ ২০২৫ এর তথ্যানুয়ায়ী প্রদান করতে হবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে সংরক্ষিত ও হালনাগাদকৃত ইবতেদায়ী প্রধানের মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান-এর প্রোফাইল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর দিয়ে প্রোফাইল/যাচাই করতে হবে।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কোড নম্বর দিয়ে প্রোফাইল ভেরিফাই/যাচাই করতে হবে। প্রোফাইল সম্পন্ন করার পর মাইগভ এর হোম পেইজ (http://www.mygov.bd) এ ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ অংশে ক্লিক করলে সেবার তালিকা পাওয়া যাবে। সেবার তালিকা থেকে সেবা বাছাই করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আরও পড়ুন: গ্রেড বৈষম্য: দুই মাস ধরে বেতনহীন মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকরা, নির্বাক মন্ত্রণালয়
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব নম্বরে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সুতরাং অনলাইন আবেদনকালে ব্যাংক হিসাবের তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করে উক্ত হিসাবের প্রমাণক হিসেবে এমআইসিআর চেক বইয়ের ১টি চেক পাতার পিডিএফ কপি সংযুক্ত করতে হবে (ব্যাংক হিসাব অনলাইনে না হলে এবং এমআইসিআর চেক বইয়ের ১টি চেক পাতা আবেদনের সময় সংযুক্ত করা না হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে)।
শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীকে স্ব- স্ব মোবাইল নম্বর এবং শিক্ষার্থীকে পিতা/মাতা/অভিভাবকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর (আবেদনের আগেই মোবাইল নম্বরটি নগদ সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে) দিতে হবে।
আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীকে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অনলাইন জন্ম সনদ এবং পিতা/মাতা/অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র অবশই সংযুক্ত করতে হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী অনুদান পেয়েছেন, সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী এ বছর (চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে) আর্থিক অনুদানের জন্য বিবেচিত হবেন না।
প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত ‘প্রতিবন্ধী সনদ’ ও তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সনদ সংযুক্ত করতে হবে। নীতিমালায় যা কিছুই থাকুক না কেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ নিজস্ব বিবেচনায় বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী/শিক্ষক- কর্মচারী/অস্বচ্ছল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এ খাত থেকে অর্থ মঞ্জুর করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।
শিক্ষার্থীদের অনলাইন জন্ম নিবন্ধন না থাকলে অনুদান প্রদান করা হবে না। আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে আবশ্যিকভাবে ‘নগদ’ হিসাব খোলা থাকতে হবে। আবেদনের কোন হার্ডকপিও গ্রহণ করা হবে না।