প্রাথমিক থেকে কলেজ সব স্তরে শিক্ষক সংকট, নিয়োগে বিলম্বের কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

৩০ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ AM
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে মাধ্যমিক স্কুল, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি স্কুল ও কলেজ—সব স্তরেই শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের মামলাজট, বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ব্যাকলগের কারণেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না।

সম্প্রতি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজ চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা রয়েছে। হাইকোর্টে রিট ও স্থগিতাদেশ রয়েছে। ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক গত পাঁচ বছর ধরে পোস্টিং পাচ্ছেন না। গ্রামে গিয়ে দেখুন, অনেক স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদায়নের বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। আদালত যে রায় দেবে, সরকার সেটিই মেনে নেবে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক পদায়ন হলে আবার ৩২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এর মধ্যে আরও ১৪ হাজার শিক্ষক প্রস্তুত রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক প্রয়োজন।’

শুধু প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক সংকট রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক লাগবে, হাইস্কুলে শিক্ষক লাগবে, এমপিওভুক্ত স্কুলে শিক্ষক লাগবে, কলেজে শিক্ষক লাগবে।’

আরও পড়ুন: প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষকের যোগদান নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

এ সংকট মোকাবিলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে দীর্ঘদিনের জট ও পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘পিএসসিরও একটি নির্দিষ্ট কর্মক্ষমতা রয়েছে। ১৭ বছরের ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। এই জঞ্জাল এত বড় যে আমি চাইলে রাতের পর রাত, দিনের পর দিন এ নিয়ে কথা বলতে পারব। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর একটি। কিন্তু গত ১৭ বছরে এটিকে এমনভাবে পরিচালনা করা হয়েছে, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।;

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘লাস্ট (ইন্টারিম) গভর্নমেন্ট ১৪ হাজার ৫০০ নিয়োগ দিয়ে গেছে। আমি এসে দেখি ১৪ হাজার ৫০০ একদম ওভারনাইট করেছে। এটা নিয়ে আমি অনেক কমপ্লেইন শুনেছি। সব অভিযোগ আমি তদন্ত করেছি। কোথাও অভিযোগ আছে, কোথাও অভিযোগ নেই। তারা ডিসিদের দ্বারা ভাইভা নিয়েছে। অনেক কিছু মিলিয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঠিক আছে, এই ১৪ হাজার ৫০০ জনকে আমরা নিয়ে নেব, কিন্তু তাদের দুই বছরের প্রবেশন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের এই নিয়োগকে শতভাগ দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাচ্ছে না। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেটা ছিল, সেখানে ১০০ শতাংশ বলা যেত। কিন্তু ইন্টারিম গভর্নমেন্টের ক্ষেত্রে আপনি ১০০ শতাংশ প্রমাণ করতে পারছেন না যে এটা ১০০ শতাংশ করাপশন। কিছু গ্রে এরিয়া রয়েছে। মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে হলে সবকিছু বিবেচনায় নিতে হয়।’

সীমান্তে ৪ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ
  • ১৯ জুন ২০২৬
টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে চমক
  • ১৯ জুন ২০২৬
প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষাধ…
  • ১৯ জুন ২০২৬
মানবকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা: পরিবেশ বিপর্যয়ের গোপন নেপথ্য …
  • ১৯ জুন ২০২৬
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি বাংলাদেশ, এক…
  • ১৯ জুন ২০২৬
হাইতি কোচের হুংকার , ‘আমি একবার ব্রাজিলকে হারিয়েছি’
  • ১৯ জুন ২০২৬