গ্রেড বৈষম্য: দুই মাস ধরে বেতনহীন মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকরা, নির্বাক মন্ত্রণালয়

০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৮ PM , আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:০১ AM
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয় © ফাইল ছবি

একই যোগ্যতা, একই প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পাওয়ার পর গ্রেড বৈষম্যের কারণে টানা দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) পদে নিয়োগপ্রাপ্তরা। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত জানুয়ারিতে নিয়োগ পাওয়া এসব শিক্ষক বর্তমানে চরম আর্থিক ও মানসিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সামনে ঈদুল ফিতর এগিয়ে এলেও বেতন না পাওয়ায় অনেকেই পরিবার নিয়ে কীভাবে ঈদ উদযাপন করবেন, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৭ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা) পদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা গত ১ ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদটি স্কুল ও মাদ্রাসা উভয় ক্ষেত্রেই ১০ম গ্রেড হিসেবে বিবেচিত ছিল। সেই ধারণা থেকেই শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য ফাইল পাঠান। কিন্তু ফাইল পাঠানোর পর দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট সেন্ট্রাল প্রোগ্রামার একে একে এসব ফাইল রিজেক্ট করে দিচ্ছেন।

এনটিআরসিএর পরীক্ষায় স্কুল ও মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের জন্য একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সনদ, একই যোগ্যতা এবং একই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা নিয়োগ পান। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, স্কুলের কৃষি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, আর মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এক চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

মন্তব্যে বলা হচ্ছে, ‘ফাইলগুলো ১১তম গ্রেডে পাঠাতে হবে’। এতে শিক্ষকরা হতবাক হয়ে পড়েন। কারণ স্কুলের ক্ষেত্রে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদ এখনও ১০ম গ্রেডে বহাল রয়েছে, অথচ মাদ্রাসার ক্ষেত্রে সর্বশেষ এমপিও নীতিমালায় এটি ১১তম গ্রেড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই পদে, একই যোগ্যতায় এবং একই পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পেলেও স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে স্পষ্ট বেতন গ্রেড বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বলছেন, এনটিআরসিএর পরীক্ষায় স্কুল ও মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের জন্য একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সনদ, একই যোগ্যতা এবং একই প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে তারা নিয়োগ পান। কিন্তু চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, স্কুলের কৃষি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, আর মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এক চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি সমাধানে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। সচিব বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন এবং বিষয়টিকে প্রকৃতপক্ষে একটি বৈষম্য বলে উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি ফাইল শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তর থেকে ফাইলটি অনুমোদন হলেও এখনো সংশোধিত নীতিমালা জারি করা হয়নি। 

সংশোধিত নীতিমালা জারি না হওয়ায় সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসের মতো মার্চ মাসের এমপিওভুক্তির ফাইলগুলোও আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। যদিও গতকাল রবিবার মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালার সংশোধনী হিসেবে প্রভাষক পদের একটি নীতিমালা জারি করা হয়েছে। তবে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের গ্রেড সংশোধনের নীতিমালা এখনও জারি হয়নি। বিষয়টি সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ওপর।

যদিও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের দাবি, মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের বিষয়টি সমাধানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি প্রয়োজন। কেননা বিষয়টির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি দিলে সংশোধিত নীতিমালা জারি হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মাদ্রাসার কৃষি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডের বিষয়টি সমাধানে কাজ চলছে। আমরা নিয়ম মেনে আগাচ্ছি।’

আরও পড়ুন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটিতে ফের রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি আলোচনায়

এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসের পর মার্চ মাসের এমপিওভুক্তির ফাইল রিজেক্ট হওয়ায় শিক্ষকরা ইতোমধ্যে দুই মাসের বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। টানা দুই মাস বেতনহীন থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। রমজান মাসে বেতন না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

মো. ওলি নামে ভুক্তভোগী এক শিক্ষক বলেন, ‘আমরা নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। সামনে ঈদ, কিন্তু পরিবারের জন্য কিছুই করতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।’

মো. মাসুদ নামে আরেক শিক্ষক বলেন, ‘নিয়োগের সময় আমরা ১০ম গ্রেড জেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। একই পরীক্ষা দিয়ে স্কুলের কৃষি শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন, আর আমরা মাদ্রাসায় যোগ দিয়ে ১১তম গ্রেডের জটিলতায় পড়েছি। দ্রুত এই বৈষম্যের সমাধান হওয়া উচিত।’

শিক্ষকরা বলছেন, দ্রুত মাদ্রাসা এমপিও নীতিমালার সংশোধিত নীতিমালা জারি করে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদের গ্রেড বৈষম্য দূর করা জরুরি। পাশাপাশি ইতোমধ্যে পাঠানো এমপিও ফাইলগুলো যেন আর রিজেক্ট না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংসদ শুরু হতে পারে খন্দকার মোশাররফের সভাপতিত্বে, জামায়াত কি…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ না মানায় অনৈক্য বাড়ছে: শিশির মন…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
থানায় ‘বিচার না পেয়ে’ বিষপান, ওসির বিরুদ্ধে আইজিপির কাছে …
  • ১০ মার্চ ২০২৬
স্বর্ণের ভরি কত টাকা আজ?
  • ১০ মার্চ ২০২৬
দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে ৭৫ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী আহ্বান …
  • ১০ মার্চ ২০২৬
তেলের দাম বাড়ায় পাকিস্তানে দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ ঘোষণা
  • ১০ মার্চ ২০২৬
close