কোচিং থেকে ফেরার পথে ছাত্রীকে অপহরণ, লাশ মিলল হাসপাতালে

কলেজছাত্রী
রুবাইয়া ইয়াসমিন  © সংগৃহীত

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক কলেজছাত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে গেছে সঙ্গে থাকা যুবক। সোমবার (১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ওই কলেজছাত্রীর নাম রুবাইয়া ইয়াসমিন (২২)।

তিনি রংপুর কারমাইকেল কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। সে নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে।

কলেজ ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সকালে মোটরসাইকেলে রুবাইয়াকে অপহরণ করার চেষ্টা করে স্থানীয় দুই যুবক। সেসময় রুবাইয়া ওই যুবকদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করার একপর্যায়ে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে তার লাশ পাওয়া যায়।

রুবাইয়ার স্বজন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো রুবাইয়া বাড়ির পাশের জলঢাকা উপজেলার টেংগনমারী বাজারে কোচিং শেষে আরও দুই বান্ধবীর সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল। সকাল ৯টার দিকে টেংগনমারী বাজারের রজনীগন্ধা হোটেলের সামনে কচুকাটা ইউনিয়নের বর্ম্মতল গ্রামের মো. আব্দুল্লাহর ছেলে ফয়সাল হোসেন ও তার সহযোগী রেজভী হোসেন জোর করে রুবাইয়াকে তাদের মোটরসাইকেলে তুলে নেন। চার কিলোমিটার দূরে রাজারহাট এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে পড়ে মাথায় আঘাত পান রুবাইয়া। পরে ওই তরুণসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা তাকে উদ্ধার করে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফয়সাল তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। সেখানেই রুবাইয়ার মৃত্যু হয়। রুবাইয়ার মৃত্যুর খবর শুনে লাশ ফেলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান ফয়সাল।

পুলিশ ও রমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার বেলা ১১টা ০৫ মিনিটে এক যুবক রিমু নাম দিয়ে ওই তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করান। কিছুক্ষণ পরেই মেয়েটি মারা গেলে তাকে নিয়ে আসা যুবককে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রুবাইয়ার বাবা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ওই ছেলের (ফয়সালের) সঙ্গে আমার মেয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। অপহরণের পর আমার মেয়ে ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ