হামলার ভিডিওতে ছাত্রদল-যুবদল নেতাকর্মী, মামলার আসামী শিবির-খেলাফত মজলিস নেতা

১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৩ PM , আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৫ PM
হামলায় অংশ নেওয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সেক্রেটারি (ডানে সবুজ টি-শার্ট), মাঝে অস্ত্র হাতে যুবদল কর্মী বিপ্লব এবং ইনসেটে যুবদলের সদস্য মিঠুন

হামলায় অংশ নেওয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল সেক্রেটারি (ডানে সবুজ টি-শার্ট), মাঝে অস্ত্র হাতে যুবদল কর্মী বিপ্লব এবং ইনসেটে যুবদলের সদস্য মিঠুন © টিডিসি সম্পাদিত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি তালিকা ঘিরে এলাকায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না থানায় দায়ের করা মামলার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য। বিশেষ করে হামলার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করা এবং ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের নাম এজাহারে না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্তে মূল আসামীদের শনাক্ত এবং নির্দোশদের বাদ দেওয়া হবে। 

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সামনের সারিতে সক্রিয় থাকলেও তাদের কাউকে মামলার আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যে জানা যায়, শনিবার দুপুরে লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে একদল লোক মিছিল সহকারে শামীম রেজার দরবারে প্রবেশ করে। তারা দরবারের নিচতলা ও দোতলায় ভাঙচুর শুরু করে এবং শামীম রেজার ঘরের দরজা ভেঙে তাকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনে। এক পর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নেওয়া হলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হামলাকারীরা আস্তানায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

এদিকে এই ঘটনায় পরিববার প্রথমে মামলা করতে রাজি না হলেও পরে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদকে। দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা আমির মাওলানা আসাদুজ্জামানকে। এছাড়া স্থানীয় কাঠমিস্ত্রি রাজিব ও শিহাব নামের আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে। তবে এই হামলায় সামনের সারিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও তাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

‘মামলার আসামী কাকে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না।’- ফজলুর রহমান, নিহতের ভাই ও মামলার বাদী

ভিডিও ফুটেজে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে এমন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের আসামি করায় মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহতের ভাই ফজলুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘মামলার আসামী কাকে করা হয়েছে, কেন করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমি কিছুই বলতে চাই না।’

ওই দিন কথিত পীর শামীমের আস্তানায় হামলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে দেখা যায়, পীর শামীমের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ওই দিনের হামলায় সরাসরি অংশ নেন ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফ, গত বছরের সভাপতিপ্রার্থী বকুল, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল, যুবদলের মিঠুন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আবদুল্লাহ সাফিসহ আরও অনেকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি হামলার সময় ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজেই ধারণ করেছিলেন।

স্থানীয় জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে শামীমের আস্তানায় হামলা চালানো হয়। তবে হামলার তিন ঘণ্টা আগেই ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট দিয়ে পবিত্র কুরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীকে সংগঠিত করেন এবং আস্তানা উচ্ছেদের ডাক দেন। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হামলার সময় মন্ডলপাড়ার হাসেমের ছেলে যুবদল কর্মী সুজন মানুষের হাতে হাতে পুরোনো রড তুলে দিচ্ছেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মারুফ একটি বাহিনী নিয়ে ছুরি হাতে এগোচ্ছেন। ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল লাইভ করে সবাইকে আসার আহ্বান জানান এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের আবদুল্লাহ মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে সবাইকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ করেন।

পীর
‘পীর’-এর দরবারে হামলাকারীরা

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের হকিস্টিক হাতে পীরের কক্ষের দিকে ছুটে যাচ্ছেন এবং যুবদল কর্মী মিঠুন টিউবওয়েলের মাথা দিয়ে পীরের ওপর আঘাত করছেন। অভিযোগ উঠেছে, মিঠুনের বাহিনী ওই আস্তানা থেকে মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের যুবদল নেতা মাসুদও শামীমের আস্তানায় এই হামলার সময় অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তবে এলাকাবাসীর দাবি, শামীমের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাধারণ জনতা সম্মিলিতভাবে অবস্থান নিলেও এখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে হামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওর ১৮ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডে দেখা যায়, পীর শামীমের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে হামলায় সরাসরি অংশ নেন ছাত্রদলের ইউনিয়ন সেক্রেটারি মারুফ, গত বছরের সভাপতিপ্রার্থী বকুল, ছাত্রদল নেতা যুবায়ের আহমেদ, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য রাসেল, যুবদলের মিঠুন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি আবদুল্লাহ সাফিসহ আরও অনেকে। শুধু তাই নয়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ছাত্রদল কর্মী যুবায়ের নিজেই ধারণ করেছিলেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াত নেতারা দাবি করেন, ‘ঘটনাস্থলে ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদল নেতাকর্মীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে পরিকল্পিতভাবে আমাদের নেতাদের জড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। খাজা আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিপনগর এলাকায় মানবিক, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজি ও দখলদারবিরোধী রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী।’ তবে ভিডিওতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদককে দেখা যায়নি। 

ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে হামলাটি সংঘটিত হয়েছে। আমি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। হামলায় সব দলের লোকই সেখানে ছিল।

কুষ্টিয়ার ফিলিপনগর ইউনিয়নে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাটি কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি এলাকাভিত্তিক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বলে দাবি করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন। তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের হামলা—এমনটা বলা যাবে না। ওই ব্যক্তির বিতর্কিত লেখা নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, সেই রেশ ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট দল জড়িত ছিল বলা কঠিন।’

‘এটি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের হামলা—এমনটা বলা যাবে না। ওই ব্যক্তির বিতর্কিত লেখা নিয়ে এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, সেই রেশ ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এখানে কোনো নির্দিষ্ট দল জড়িত ছিল বলা কঠিন।’-হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন বিএনপি

তিনি স্পষ্ট করেন, হামলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন মতাদর্শের লোক থাকতে পারে, তবে এটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্তে হয়নি। হামলার নেতৃত্বে জামায়াত বা শিবিরের কোনো নেতার সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘ঘটনা চলাকালীন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। তাই কে ছিল বা কে নেতৃত্বে ছিল, তা সরাসরি বলতে পারব না।’

হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার জানামতে, মামলার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক। বাদীর বড় ভাই প্রথমে মামলা না করার কথা বললেও পরবর্তীতে পরিবারের অন্য সদস্যরা (পিন্টু, আজাদ ও ভাগ্নে) মিলে বসে আলোচনা করে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন।

মামলার প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে এবং প্রকৃত ঘটনা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ঘটনার সময় ফিলিপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুলসহ দলের আরও অনেক নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অথচ আমি সেখানে উপস্থিত না থেকেও আমার নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

খাজা আহম্মেদ অভিযোগ করেন, সম্পূর্ণ ঘটনাটিকে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে। মামলায় শুধুমাত্র বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে মামলার আসামী করা হলে হয়তো নির্দোষ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার হতো না। 

এ বিষয়ে ভেড়ামারা-দৌলতপুর অঞ্চলের সার্কেল এসপি দেলোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, পীর শামীম হত্যার ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, সেখানে কার নাম থাকবে বা থাকবে না এটি মূলত বাদীপক্ষের বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বাদীপক্ষ মামলাটি করতে আগ্রহী ছিল না। পরে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা এবং বিশেষ করে ভুক্তভোগীর মায়ের বক্তব্যের পর মামলা দায়ের করা হয়। কে ঘটনাস্থলে ছিল, কে ছিল না—এসব বিষয় পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করবে। ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে।’

ঘটনার দিন প্রধান আসামি খাজা আহম্মেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ওই দিনের বিষয়ে আমি একাধিকবার ওনার সাথে কথা বলেছি। বিভিন্ন তথ্য নিয়েছি। এখন বাদীপক্ষ যাদেরকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত হিসেবে মনে করেছে, তাদের নাম উল্লেখ করেই মামলা করা হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলায় নতুন আসামি অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, আবার বাদও যেতে পারে বলে জানান তিনি।

অতীতের সরকারের দুর্নীতি-ভুল পলিসিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন …
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
তিন মাস পর ফের নতুন কমিটি জবি শিবিরের
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ভাল নেই হাফেজে কোরআন হামিদুর, মস্তিষ্ক থেকে জটিলতা কিডনিতেও
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
অন্যরকম সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে লিটন
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাল্কহেড চলাচলের জন্য ভেঙে দেওয়া হলো বাঁশের সাঁকো
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
১৯৭৯ সালে ‘জিয়াউর রহমানের হাতে ধানের শীষ’ তুলে দেওয়া নিয়ে য…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬