চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, ৩ লাখে রফাদফা করলেন ওসি

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩ PM
প্রাইম হাসপাতাল

প্রাইম হাসপাতাল © টিডিসি ফটো

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর প্রাইম হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুধারাম মডেল থানার ওসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওসির হস্তক্ষেপে বিনা ময়নাতদন্তে সাদা কাগজে মুচলেকা দিয়ে লাশ দাফনে বাধ্য করা হয়েছে এবং ওসির প্ররোচনায় নিহতের স্বজনদের আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার ও স্বজনরা।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে মাইজদীর প্রাইম হাসপাতালে সেনবাগ উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও দুই সন্তানের জনক ইমাম হোসেন বাবু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতের স্বজনদের দাবি, বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক আসতে দুই ঘণ্টা দেরি করেন এবং ভর্তির পর জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে দুটি ইনজেকশন পুশ করার পরপরই বাবুর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের এই চরম গাফিলতির প্রতিবাদে স্বজনরা হাসপাতালে আহাজারি শুরু করলে হাসপাতালের ম্যানেজার পুলিশ ডাকেন।

অভিযোগ উঠেছে, সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কোনো কিছু না বুঝেই নিহতের চার আত্মীয়ের শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে নিচে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ওসির এমন অপেশাদার আচরণে স্থানীয় জনতা ও উপস্থিত সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে আসেন এবং তার নির্দেশে আটক যুবকদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর জনরোষের মুখে পুলিশ হাসপাতালের ম্যানেজারকে থানায় নিয়ে গেলেও পরে রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে, ওসি তৌহিদুল ইসলাম নিহতের স্বজনদের থানায় ডেকে নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপস করার জন্য প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাত ১টার দিকে ওসি তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিনা ময়নাতদন্তে, ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে নিহতের পরিবারকে লাশ নিয়ে দাফন করতে বাধ্য করেন। এসময় তিনি নিহতের স্বজনদের কাছ থেকে কয়েকটি সাদা কাগজে স্বাক্ষরও করিয়ে রাখেন। একটি সূত্র দাবি করেছে, হাসপাতাল থেকে ৫ লাখ টাকা আদায় করা হলেও পরিবারকে ৩ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা পুলিশ ও অন্যান্য খরচের কথা বলে রেখে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি তৌহিদুল ইসলাম হাসপাতাল ও মৃতের পরিবারের মধ্যে আপস-মীমাংসার বিষয়টি স্বীকার করলেও, কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে থানার ভেতরে বসে তিনি এমন সালিশ করার আইনি অধিকার রাখেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোন কেটে দেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওসির দাপট ও হুমকির কাছে তারা অসহায় হয়ে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার না পেয়েই লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন যা…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জনবল নিয়োগ দেবে  ট্রাস্ট ব্যাংক, কর্মস্থল ঢাকা
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
চ্যাংদোলা করে নেতাকে বের করার ঘটনায় ছাত্রদলের ৫ নেতাকে শোকজ
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দুদকের ৬ মামলায় কারাগারে পাবনা মানসিক হাসপাতালের সাবেক পরিচ…
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশে আর কোনো সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু জামায়াত 
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬
ব্যাংক এশিয়া নিয়োগ দেবে ৭ জেলায়, আবেদন শেষ ১৩ মে
  • ২৯ এপ্রিল ২০২৬