ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল © সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির এলোপাথাড়ি হামলায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় দিয়া আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। হামলায় মা ও দুই ভাই-বোন গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) ভোরের দিকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত দিয়া আক্তার শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন— দিয়ার মা মৌসুমী আক্তার (৩৫), ছোট বোন জয়া (১২) ও ভাই মুয়াজ (১৫)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা বিল্লাল হোসেন জানান, আবু মুসা নামে এক ঠিকাদার প্রতিবেশী নবীউল্লাহর কাছে টাকা পাওনা ছিলেন। ভোরে সেই টাকা আদায়ের জন্য নবীউল্লাহর বাসায় যান তিনি। একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনার বশে প্রথমে নবীউল্লাহ ঠিকাদার আবু মুসাকে কুপিয়ে জখম করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আবু মুসা ক্ষিপ্ত হয়ে নবীউল্লাহর পরিবারের ওপর চড়াও হন।
আরও পড়ুন: শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল যুক্তরাষ্ট্র
আবু মুসার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবীউল্লাহর স্ত্রী মৌসুমীর বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় মাকে বাঁচাতে মেয়ে দিয়া এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ঘাতক মুসা একে একে জয়া ও মুয়াজকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে মা ও বাকি দুই সন্তান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযুক্ত আবু মুসাও আহত অবস্থায় পুলিশি পাহারায় একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। উভয় পক্ষই যাত্রাবাড়ীর কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।