বিসিবি সভাপতিকে বিদায় দিতে বিমান বন্দরের পিসিবি চেয়ারম্যান © সংগৃহীত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সফল হতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির সাথে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায়ে সক্ষম হয়েছে, যা বিসিবি সভাপতির হাস্যোজ্জ্বল বিদায় এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির উষ্ণ আতিথেয়তায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মূলত নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ায় বাদ পড়া বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় এই বৈঠকে পাকিস্তান শক্ত অবস্থান নেয়। পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বুলবুল গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে দীর্ঘ সময় ধরে আইসিসির প্রতিনিধি ও পিসিবি চেয়ারম্যানের সাথে দেনদরবার করেন, যেখানে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যতে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম 'এনডিটিভি' ও পাকিস্তানের 'জিও টিভি'র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ খেলার বিনিময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিনটি প্রধান শর্ত রেখেছে।
শর্তগুলো হলো— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারায় বাংলাদেশের জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, বিশ্বকাপে না খেলেও বাংলাদেশকে ‘পার্টিসিপেশন ফি’ বা অংশগ্রহণের পারিশ্রমিক প্রদান করা এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বড় কোনো আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
যদিও আইসিসি শুরুতে বাংলাদেশকে আলাদা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি কোনো প্রস্তাব দেয়নি, তবে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, 'আইসিসির মোট আয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ তাদের পূর্ণ শেয়ার নিয়মিতভাবেই পাবে।' আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এই সংকট নিরসনে একটি বিশেষ 'ফর্মুলা' বা সূত্রের প্রস্তাব দিয়েছেন, যা অনুমোদনের জন্য বর্তমানে আইসিসি সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এই বৈঠকের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত নাটকীয়, কারণ বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তান সরকার আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। এই ঘোষণার পর আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় তড়িঘড়ি করে লাহোরে এই বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে পিসিবি 'আইসিসির কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে থাকা রাজনীতি এবং এতে ভারতের অত্যধিক হস্তক্ষেপের' বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। আইসিসি প্রতিনিধি ইমরান খাজা পিসিবিকে 'ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে' তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান এবং আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উদ্বেগগুলো নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পাকিস্তান তাদের দাবি আদায় হলে শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই সফরে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছেন, যার ফলে বিশ্বকাপে না খেলার কারণে আইসিসির সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা থেকে বাংলাদেশ রেহাই পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্টো আইসিসি বাংলাদেশকে আর্থিকভাবে 'পুষিয়ে দেওয়া' বা সমর্থনসূচক বিবৃতি দেওয়ার পথে হাঁটছে।
বিসিবি সভাপতির সাথে পিসিবি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক এবং গত এশিয়া কাপ আয়োজনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ পাকিস্তান এই পুরো প্রক্রিয়ায় বিসিবির জন্য মূল সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেছে। লাহোরে প্রস্তাবিত এই নতুন সমঝোতা সূত্র নিয়ে বিসিবি সভাপতি এখন বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করবেন এবং আইসিসি সদর দপ্তরের সবুজ সংকেত পেলে আজ বিকালেই পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।