এইচপিসি ফুটশাল-২০২৫ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন হামদর্দ কলেজের অধ্যক্ষ © টিডিসি
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শান্ত বিকেলে বসিলা রয়্যাল মাল্টিপারপাস অ্যারেনার ‘টার্ফ’-জুড়ে হঠাৎই যেন তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। হামদর্দ পাবলিক কলেজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘এইচপিসি ফুটসাল-২০২৫’ (ইনডোর ফুটবল) প্রতিযোগিতার জন্য চারদিকে ব্যানার, শিক্ষার্থীদের কোলাহল, রঙিন বেলুন আর উচ্ছ্বাসে জমে ওঠে পুরো মাঠ।
গত ৪ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় কলেজ অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. নজরুল ইসলাম বেলুন উড়িয়ে ইনডোর ফুটবলের এই রঙিন আসরের উদ্বোধন করেন। এর আগেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতে সুর মেলাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধ উপস্থিতি যেন এনে দেয় এক আলাদা মর্যাদা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মীর জিনাত মেহবুবা।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নাচ-গান সংবলিত চমৎকার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে। আর সন্ধ্যার দিকে আতশবাজির রঙিন ঝলকানি পুরো অনুষ্ঠানে যোগ করে বাড়তি জাঁকজমক।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিজের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, দক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব তৈরি, মেধার বিকাশ এবং বিনোদন ও সংস্কৃতি চর্চার উদ্দেশ্যেই তাদের এ আয়োজন। কারণ, শরীর ও সাংস্কৃতিক চর্চাও শিক্ষার্থীদের পরবর্তী জীবনে এগিয়ে থাকতে ভূমিকা রাখে।
দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘এইচপিসি টাইগার্স’ ও ‘এইচপিসি কিংস’-এর মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ। দুটি দলের লড়াইয়ে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উত্তেজনা। ম্যাচ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের তালিকাভুক্ত রেফারি রিয়াজ ভূঁইয়া। ধারাভাষ্যে ছিলেন ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নিশাত জাহান এবং রিনা আক্তার।
ফুটশাল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রাকিব হাসান নামে এক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ইট-পাথরের ও খেলার মাঠের অভাব থাকা এ শহরে এমন আয়োজন কার না ভাল লাগে? হামদর্দ পাবলিক কলেজের প্রতি কৃতজ্ঞতা যে, তারা এত সুন্দর একটি আয়োজন উপহার দিয়েছে। শুধু খেলাধুলাই নয়, বরং আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্ধু-বান্ধব ও সম্মানিত শিক্ষকসহ পুরো কলেজ পরিবারের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। আর অনুষ্ঠানটির সাংস্কৃতিক অংশও খুব ভালো লেগেছে— আমরা সবাই আনন্দ ও উৎসাহে মেতে উঠেছিলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন গঠনের জন্য খেলাধুলার কোন বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, দলগত মনোভাব ও নেতৃত্ব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে প্রতিযোগিতা আয়োজনের ব্যাপারে বলেন, প্রতিবছরই আমাদের হামদর্দ পাবলিক কলেজ এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। আসলে এ প্রতিষ্ঠান ব্যতিক্রমী সবকিছু করে বলেই আজ হামদর্দ কলেজ মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে পৌঁছে গেছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির সদস্যসহ কর্ণধাররা চান যে, আমাদের শিক্ষার্থীরা সবক্ষেত্রে দক্ষতা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখুক। এজন্য আমরা পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরকে খেলাধুলা, বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে থাকি।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরাই আগামীতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। সুতরাং, তাদেরকে সেভাবে তৈরি করে দেওয়াটা আমাদেরই নৈতিক দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সফল হওয়াটাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও রানার আপ দলকে ট্রফি প্রদান করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে স্পোর্টস কমিটির সভাপতি ও রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান খেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে পুরো অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে দাতব্য সংস্থা হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ্)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মো. ইউসুফ হারুন ভূঁইয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় হামদর্দ পাবলিক কলেজ (এইচপিসি)। শিক্ষা, সমতা ও জাতির উন্নয়নের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে মাত্র ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ কলেজ।
প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হারুন ভূঁইয়ার অনুপ্রেরণায় এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুনের প্রত্যক্ষ দিক নির্দেশনায় মান সম্মত পড়াশুনা, বিভিন্ন ক্লাব কার্যক্রম ও খেলাধুলায় অসাধারণ আবদান রেখে চলেছে কলেজটি। বিশেষ করে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বছর শতভাগ পাসের হার এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জিপিএ-৫ অর্জনকারীদের সাথে সফল ধারা অব্যাহত রেখেছে।