২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল © টিডিসি ফটো
উপকূলীয় জেলা বরগুনায় একসঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় চাপে পড়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। হাম, ডায়রিয়া, ডেঙ্গু ও তীব্র গরমজনিত অসুস্থতায় প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ।
২৫০ শয্যার বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড, ডায়রিয়া ইউনিট ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। অনেক রোগী বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। স্বজনদের অভিযোগ, স্যালাইন পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭০৩ জন। এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছেন ১৮৪ জন, যার মধ্যে ৮২ জন শিশু। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণ রোগী থাকায় অনেক শিশুকে মায়ের কোলেই স্যালাইন দিতে দেখা গেছে।
এদিকে হামের প্রকোপও বেড়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর ৩২৮ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩৮ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের অনেকেই টিকার আওতার বাইরে থাকা বয়সের শিশু।
ডেঙ্গু পরিস্থিতিও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় তিন শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বরগুনা সদর ছাড়াও আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা ও তালতলী উপজেলায় ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়রিয়া বাড়ছে। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি ও দুর্বল মশক নিধন কার্যক্রম ডেঙ্গু বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির কারণে হামের ঝুঁকিও বেড়েছে।
অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরমে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিনই মাথা ঘোরা, বমি ও দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন অনেকে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম বলেন, “একসঙ্গে একাধিক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা চাপে পড়েছে। সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তারা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, মশক নিধন বাড়ানো এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।