ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল © সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব, নিকাব ও পর্দাকে লক্ষ্য করে বিএনপি সাংসদ মনিরুল হক চৌধুরীর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, দলীয় সংসদ সদস্যদের টেবিল চাপড়ে উল্লাস প্রকাশ এবং দেশব্যাপী ছাত্রদল-যুবদলের অব্যাহত ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ (১৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টায় ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলটি রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। ঢাকা মহানগর নেতৃবৃন্দের পরিচালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল, মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহণ সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসাইন, পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ মহানগরীর বিভিন্ন স্তরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সায়েম।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, ‘শতকরা ৯০ ভাগ মুসলিমের এই দেশে জাতীয় সংসদের মতো পবিত্র জায়গায় হিজাব ও শালীন পোশাক নিয়ে কটাক্ষ করা চরম ধৃষ্টতা। একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। আপনারা মুখে মদিনা সনদের কথা বলেন, অথচ আপনাদের নেতা-কর্মীরা হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়—এই দ্বিমুখী নীতি এ দেশের ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, নারীরা নারীদের বিদ্বেষী হতে পারে—এটা বিএনপিকে না দেখলে আমরা বুঝতে পারতাম না। যখন সংসদে ধর্মানুরাগী নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়, তখন বিএনপির অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও টেবিল চাপড়িয়ে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান—এটি এই জাতির জন্য লজ্জার। তারা সামষ্টিকভাবে প্রমাণ করেছে, তারা এ দেশে ইসলাম চায় না।
এই নেতা বলেন, যে সংসদে মানুষের অধিকার রক্ষার আইন করা হয়, সেখানে নারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিদ্রূপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অবিলম্বে সংসদে দেওয়া অবমাননাকর বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ধর্ষণের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আগামীতে আরও কঠোর ও অলঙ্ঘনীয় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে বিএনপি আজ ধর্ষকদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে অন্তত দুই শতাধিক ধর্ষণ করেছে বিএনপি, ছাত্রদল ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দেশজুড়ে অব্যাহত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা ও একটি নৈতিক সমাজ গঠনে আজ ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম সমালোচনা করে বলেন, দেশে খুন, ধর্ষণ, প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যা, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর ভূমিকা পালন করছেন, অথচ নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে উদাসীন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ঢাকা মহানগরীর হাজার হাজার ছাত্র-জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে এবং অবিলম্বে হিজাব অবমাননাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।