বাইবিসাস লোগো © সংগৃহীত
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংবাদিকতা চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি’ (বাইবিসাস)।
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আত্নপ্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দশ সদস্য বিশিষ্ট নবগঠিত প্রতিষ্ঠানকালীন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও এটিএন বাংলার সংবাদকর্মী হাবিবুল্লাহ এবং সেক্রেটারি হয়েছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা মেডিভয়েসের স্টাফ রিপোর্টার মুজাহিদুল ইসলাম।
এছাড়াও সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নয়া দিগন্তের সাদাফ হোসেন জিহাদ। প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির মনোনীত অন্য সদস্যরা হলেন— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্দীন মজুমদার, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক মুশফিকুর রহমান, প্রকাশনা সম্পাদক শওকত জামিল প্রিন্স, আইটি সম্পাদক আল আমীন, অর্থ সম্পাদক আবিদুর রহমান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম সালজার হোসেন (অব.)।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি সাংবাদিকতার বিভাগ থাকতো তবে অটোমেটিক একটি সাংবাদিকতার ক্লাব তৈরি হয়ে যেত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা এক্সট্রা কারিকুলামের অন্তর্ভুক্ত। এসময় তিনি একাডেমিক, কো-কারিকুলাম ও এক্সট্রা কারিকুলাম কার্যক্রমের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং সমিতির উদ্দেশ্য ও গগণতন্ত্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
নৈতিক চর্চাই হলো সাংবাদিকতা জানিয়ে ভিসি বলেন, মহান এই পেশার বিপক্ষে রয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা বা অপসাংবাদিকতা। সুতরাং এখানে ব্যাড প্রাক্টিসও দেখা যায়। এই ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
বাইবিসাসকে সুখবর দিয়ে বলেন, অন্যান্য বিভাগের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে সাংবাদিক সমিতির মাধ্যম ম্যাগাজিন 'ইউনিভার্সিটি অব ইউথ জার্নাল' প্রতি মাসে একটা করে বের করতে পারবে।
সমিতির ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন করে এরকম সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকতে হবে, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
এছাড়াও সমিতির কার্যক্রমে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তার বিষয়ে একটি গাইডলাইন উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ড. মো. সোহেল আল বিরুনী, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্ব ডা. আব্দুল মান্নান, সবুর খান ও ভিবিন্ন ক্লাবের ডিরেক্টর এবং সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তারা সাংবাদিক সমিতির গঠনমূলক কাজের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার আশা ব্যক্ত করেন।
টেলিভিশন ও পত্রিকায় কর্মরত সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি সানে কর্মরত সাংবাদিক কামরান আহমেদ ও আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার সম্পাদক শরিফুল ইসলাম বক্তব্য প্রদান করেন। তারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃতিচারণ ও অনুভূতি শেয়ার করেন।
এ সময় অনুষ্ঠানে ভিসির নেতৃত্বে কেক কেটে বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির (বাইবিসাস) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা হয়।
নবগঠিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায়— ক্যাম্পাস রিপোর্টিংয়ের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ, ‘ফ্যাক্ট-চেকিং ও সংবাদ যাচাই’ বিষয়ক সেমিনার, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে সরাসরি কভারেজ চালু করা বিষয়ে তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে নতুন কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি সমাপনী বক্তব্যে স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সমাপ্তি করা হয়।