ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় © টিডিসি ফটো
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রিনা আক্তারের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফেলে পালিয়ে গেছে ওই নারীর স্বামী পিয়াল ও তার পরিবার । মেয়েটির স্বজনদের দেখেই তারা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
জেলার কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। নিহত রিনা আক্তার মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের বাশুঁরী দূর্গাশ্রম গ্রামের জাকির মিয়ার মেয়ে। এদিকে স্বামী পিয়াল মিয়ার বাড়ি কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কুনাপাড়া গ্রামের মৃত বিল্লাল বেপারির ছেলে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিনা আক্তার গামের্ন্টেসে চাকুরি করত। পিয়ালের চাচাতো ভাই আলালের বাসায় তাদের পরিচয় হয়। সেই সুবাধে দুজনের পরিচয়। পরে তাদের মধ্যে সর্ম্পক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে পরিবারের সম্মতি ক্রমে বিয়ের বন্ধনে আবব্ধ হয়। গত তিন মাস আগে তাদের বিবাহ বন্ধন হয়। বিয়ের ১৫ দিনের পর থেকেই মেয়েটিকে স্বামী পিয়েল অপছন্দ করতে শুরু করে। স্বামী পিয়াল সিন্ধান করে মেয়েটিকে তালাক দেবে। এতে মেয়েটি প্রতিবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়।
বুধবার ইফতারের পর মেয়েটি বিষ খেয়েছে বলে পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস মোবাইল ফোনে রাত ১১টায় মেয়েটির বাবাকে জানায়। আমরা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে এসেছি বলেও বাবাকে বলে। মেয়েটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এদিকে মেয়েটির স্বজনরা খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গেলে স্বামী পিয়াল ও তার পরিবারের লোকজন রিনা আক্তারের মৃতদেহ হাসপাতালের সামনে ফেলে পালিয়ে যায়। তবে মেয়েটির পরিবারের দাবি সে বিষপান করে আত্মহত্যা করেনি। তাকে মূলত হত্যা করে বিষপানের নাটক সাজানো হয়েছে।
এমন সংবাদ পেয়ে কুনাপাড়া স্বামী পিয়ালের গ্রামের বাড়িতে গেলে, পিয়ালের বাড়িতে থাকা গরু অন্যত্র সড়িয়ে নিয়েছে স্বজনরা। এমনকি সব ক’টি ঘরে তালা ঝুলানো অবস্থায় রয়েছে।
মেয়েটির বাবা জাকির মিয়া জানান, পিয়ালের বড় ভাই পিয়াস আমাকে বুধবার রাত আনুমানিক ১১ ঘটিকার সময় তার ফোনে আমাকে জানায়, আমার মেয়ে বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। এমনকি তারা কেন্দুয়ার হাসপাতালে মেয়েটিকে নিয়ে গেছে। পরে শোনলাম তারা আমার মেয়েকে ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে গেছে। সেখানে আমার আত্মীয় স্বজনকে পাঠালে আমার মেয়েকে মৃত অবস্থায় পায়। আমার স্বজনদেরকে দেখে তারা পালিয়ে গেছে। মূল কথা হল আমার মেয়ে বিষ পান করেনি। তারা আমার মেয়েকে বাড়িতেই হত্যা করে বিষ পানের নাটক সাজিয়েছে। মেয়েটি বিয়ের পর থেকেই পিয়ালের পরিবারের লোকজন তাকে নানা ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করে আসছিল। তাকে জোড়পূর্বক তালাকও দিতে চেয়েছিল। তারা খুবই অমানুষ। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
তবে পিয়ালের আপনচাচী সাবেক ইউপি সদস্য লাকি আক্তার জানায়, আমি ইফতার করে পাশের বাড়িতে মাগরিবের নামাজ পড়তে যাই। সেখান থেকে এসে শুনি পিয়ালের বউ বিষপান করেছে। তাকে কেন্দুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে শোনলাম মারা গেছে। গরু বাড়িতে থেকে কেন সড়ানো হল ? এর আগে তাদের মধ্যে কোন কলাহল ছিল কি না এমন প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেনি।
কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ মেহেদি মাকসুদ জানান, এমন একটি সংবাদ আমি আজ বিকেলে পেয়েছি। পেয়েই তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরন করেছি। তবে জানতে পারলাম, লাশ ফেলে স্বামীসহ তার পরিবারের লোকজন চলে গেছে।
লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে আজ সন্ধ্যার দিকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।