ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা © সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই মেলার উদ্বোধন করবেন। মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এবার পঞ্চমবারের মতো পূর্বাচলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে ৩২৪টি দেশি-বিদেশি প্যাভিলিয়ন ও স্টল থাকছে।
এবারের মেলায় প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা তাঁদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশের সুযোগ পাবেন। মাসব্যাপী এই মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দর্শনার্থীরা স্পট থেকে টিকিট কেনার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট কিনে কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রবেশ করতে পারবেন।
ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বিআরটিসির ২০০টিরও বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মেলা প্রাঙ্গণে যাওয়ার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৪০ টাকা। এছাড়া ফার্মগেট (খেজুরবাগান বা খামারবাড়ি) থেকে ৭০ টাকা, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া থেকে ১২০ টাকা, মুক্তারপুর থেকে ১৩০ টাকা এবং নরসিংদী থেকে ১০০ টাকা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করা যাবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। বিআরটিসির এই শাটল বাসগুলো প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে মেলা অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে এবং মেলা প্রাঙ্গণ থেকে শহরের উদ্দেশ্যে সর্বশেষ বাসটি ছাড়বে রাত ১১টায়। বাসের পাশাপাশি যাতায়াতে বিশেষ মূল্যছাড় দিতে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ ‘পাঠাও’ যুক্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ১৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে। মেলায় দেশীয় বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস, ফার্নিচার, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, খেলনা, প্লাস্টিক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসহ গৃহস্থালির নানা পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় করা হবে। গত বছর এ মেলায় মোট ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল।
যেভাবে আসবেন মেলায়
কুড়িল বিশ্বরোড বাসস্ট্যান্ড থেকে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটারের একটু বেশি। রাস্তা ফাঁকা থাকলে বিশ্বরোড থেকে মেলায় পৌঁছাতে সময় লাগবে ৪৫ মিনিট। আর যানজট থাকলে এক ঘণ্টা লাগবে। তাই এখান থেকে আসা সবচেয়ে সহজ। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে এলে পার্কিংয়ের ঝামেলায় পড়তে হবে না। মেলায় পাঁচ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং ভবন রয়েছে। এ ছাড়া মেলা কেন্দ্রের বাইরে আছে ছয় একর জমিতে পার্কিংয়ের আলাদা ব্যবস্থা।
বিআরটিসি বাস ছাড়াও অন্যান্য যাত্রীবাহী বাসে বাণিজ্যমেলায় আসতে জনপ্রতি গুনতে হবে ৪০ টাকা। নামতে হবে কাঞ্চন ব্রিজে। সেখান থেকে ১০-২০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে মেলায় আসা যাবে।
এ ছাড়া বিমানবন্দর, মিরপুর, টঙ্গী, বনানী, গুলশান, বারিধারা, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, কল্যাণপুর, নদ্দা, রামপুরা, বনশ্রী, জয়দেবপুর, গাজীপুর এলাকার বাসিন্দারা কুড়িল ফ্লাইওভার ব্যবহার করে তিনশ ফিট দিয়ে মেলায় আসতে পারবেন। মতিঝিল, মোহাম্মদপুর ও মিরপুর থেকেও গণপরিবহনযোগে মেলায় আসতে পারবেন। যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো, মাদারটেক, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড ও নারায়ণগঞ্জ থেকে যারা মেলায় আসবেন, তারা গুলিস্তান থেকে সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড হয়ে গাউছিয়া কিংবা কাঞ্চন ব্রিজ পার হয়ে মেলায় আসতে পারেন। তবে কাঞ্চন ব্রিজসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় সময় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয় মেলায় আসা দর্শনার্থীদের।