এস জয়শঙ্কর ও সরদার আয়াজ সাদিক © সংগৃহীত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকায় আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক। শোকানুষ্ঠান উপলক্ষে তারা আলাদাভাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান।
তবে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে এই দুই শীর্ষ প্রতিনিধি হঠাৎই একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় ও করমর্দনে অংশ নেন। এ ঘটনাই ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার পর এটিই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম প্রকাশ্য সৌজন্য বিনিময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই মুহূর্তটিকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করছেন।
আরও পড়ুন: চবির বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ, আসনপ্রতি লড়বেন ৮০ ভর্তিচ্ছু
বাংলাদেশ সফর শেষে নিজ দেশে ফিরে পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়াজ সাদিক পুরো ঘটনাটি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ ভবনে বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত একটি অপেক্ষাকক্ষেই এই সাক্ষাৎ ঘটে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কক্ষে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এস জয়শঙ্কর মালদ্বীপ ও ভুটানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছিলেন, আর তিনি নিজে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপ করছিলেন। একপর্যায়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাছে এগিয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান।
আয়াজ সাদিক বলেন, জয়শঙ্কর নিজ পরিচয় দিলে তিনি কুশল বিনিময় করেন। নিজের পরিচয় দিতে গেলে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে থামিয়ে জানান, তিনি আগে থেকেই পরিচিত। এরপর দু’জনের মধ্যে করমর্দন হয়।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে বলেন, কোনো ধরনের সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই প্রকাশ্যে এই সৌজন্য বিনিময় হয়, যা উপস্থিত ক্যামেরায় ধরা পড়ে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা।