বিয়ের আনন্দযাত্রা পরিণত অশেষ শোকে
স্ত্রী-তিন সন্তানসহ পরিবারের ৯ জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ জনি © সংগৃহীত
একটি বিয়ের আনন্দযাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অশেষ শোকে। চোখের সামনে নিভে গেছে পুরো পরিবার, বেঁচে আছেন শুধু একজন। তিনি হলেন আশরাফুল রহমান জনি। স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ পরিবারের নয়জন সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে তিনি এখন নির্বাক, নিস্তব্ধ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে খুলনা মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এই ট্র্যাজেডি ঘটে। দুর্ঘটনায় মোট ১৪ জন নিহত হন।
এরমধ্যে জনির ভাই নতুন বর আহাদুর রহমানসহ পরিবারের ৯ সদস্য এবং কনে মার্জিয়া আক্তার মিতুসহ তাদের পরিবারের চার জন ও গাড়ি চালক নাঈম নিহত হন।
ছোট ভাই সাব্বিরের বিয়েতে অংশ নিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুলনার কয়রায় গিয়েছিলেন জনি। বিয়ের সব আয়োজন শেষে সবাই মিলে বাড়ি ফিরছিলেন। পরিবারের অধিকাংশ সদস্য মাইক্রোবাসে উঠলেও জনি ছিলেন মোটরসাইকেলে। হয়তো সেই কারণেই প্রাণে বেঁচে যান তিনি। কিন্তু সেই বেঁচে থাকাটাই যেন আজ তার সবচেয়ে বড় বেদনা।
দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন জনির স্ত্রী, তিন সন্তান। একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা, ভাই, বোন এবং দুই ভাগনে-ভাগনি। মুহূর্তেই যেন নিভে গেছে পুরো একটি পরিবার।
জনির মামা নেসারুল ইসলাম সবুজ জানান, একসঙ্গে এতগুলো প্রিয়জনকে হারিয়ে জনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। জনির স্ত্রীসহ তিন সন্তান মারা গেছে। পরিবারের মোট ৯ জন মানুষ নেই। জনি কোনো কথাই বলছে না। বাকরুদ্ধ হয়ে ঝিম মেরে বসে আছে। কখনো কখনো শুধু তাকিয়ে থাকে, কিন্তু কিছুই বলতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের আনন্দ শেষে হাসি-খুশি মুখেই সবাই ফিরছিলেন। কিন্তু পথের মাঝেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরেরও কম। শিশুদের সঙ্গে তাদের মায়েরাও প্রাণ হারিয়েছেন।
যে পরিবারটি একদিন আগেও বিয়ের আনন্দে মেতে ছিল, সেই পরিবার আজ একসঙ্গে বহু কবরের শোক বয়ে বেড়াচ্ছে। আর সেই শোকের ভার নিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন আশরাফুল রহমান জনি। যিনি চোখের সামনে হারিয়েছেন নিজের পুরো পৃথিবী।