বাম দিক থেকে- যুবদল নেতা হাবিবুর রহমান, বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান © টিডিসি ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ-কুন্ডা বেড়িবাঁধের কুকুরিয়া ভাঙা ব্রিজসংলগ্ন খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে যুবদল নেতা মো. হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সাথে বিষয়টির প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসী ও তার পরিবারকে হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, গত ৫ মে গোকর্ণ ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. হাবিবুর রহমান নিয়মবহির্ভূতভাবে খেয়াঘাটটির ইজারা নেন। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারিকৃত অফিস আদেশ অনুযায়ী, খেয়াঘাটে মাশুল ফর্দ টানিয়ে রাখার কথা থাকলেও সেখানে কোনো মাশুল তালিকা টানাননি তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনামূল্যে পারাপারের তথ্য গোপন করতেই ইচ্ছাকৃতভাবে মাশুল তালিকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইজারাদার হাবিবুর রহমানের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম খেয়াঘাটের তদারকির দায়িত্ব পালন করছেন। চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে প্রায়সময় যাত্রীদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর নিয়মিত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের নিলাম কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, খেয়াঘাটটির নিলাম আহ্বানের সময় কোনো জাতীয় বা স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ড বা ওয়েবসাইটেও নিলাম সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন করা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, গত বছর খেয়াঘাটটি ৪ লাখ টাকারও বেশি মূল্যে ইজারা দেওয়া হলেও এ বছর তা মাত্র ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসরিন বলেন, ‘ইজারা চুক্তি অনুযায়ী জনসাধারণের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। তাদের ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা আরও জানান, ইজারাদার হাবিবুর রহমান এর আগেও খরা মৌসুমে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে একটি সরকারি খাল ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
এছাড়া গত ৫ আগস্টের পর থেকে যুবদল নেতা হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধ ভুয়া মামলায় হয়রানি ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর মধে্য ওই এলাকার এক মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রীর চাকরি বাঁচানোর নামে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগটি এলাকাজুড়ে আলোচিত হয়েছে ইতোমধ্যে।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসী ও তার পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, ‘আমার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি কোনো অনিয়ম বা অন্যায় করে থাকে, তাহলে প্রশাসন যেন তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. শাহীন জানান, নিলাম আহ্বানের সময় তাকে কোনোভাবে অবহিত করা হয়নি এবং ইউনিয়ন পরিষদেও এ সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়নি।
তিনি বলেন, গত বছর ৪ লাখ টাকার বেশি মূল্যে ইজারা হলেও এ বছর মাত্র ৭০ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি রাজস্ব খাতের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি। এছাড়া নিলামে আগ্রহী অনেক ব্যক্তি আবেদন করার পরও নিলামের সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।