গ্রুপার ফিশ © টিডিসি ফটো
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে ২৬ কেজি ওজনের একটি বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘গ্রুপার ফিশ’। শনিবার (১ আগস্ট) সকালে স্থানীয়ভাবে ‘ভোল মাছ’ নামে পরিচিত বিশাল আকৃতির এ মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের একটি আড়তে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সোনারচর এলাকায় এফবি সিফাত ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যান জেলে আব্দুর রহিম মাঝি। সাগরে জাল তোলার সময় অন্যান্য মাছের সঙ্গে উঠে আসে বড় আকৃতির গ্রুপার ফিশটি। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সিফাত এন্টারপ্রাইজ আড়তে আনা হলে বিরল এ মাছটি দেখতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
পরে ডাকের মাধ্যমে মাছটি ৩৫ হাজার টাকায় কিনে নেন আড়ৎ মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। তিনি জানান, এ ধরনের বড় আকারের গ্রুপার ফিশ সাধারণত খুব বেশি পাওয়া যায় না। মাছটির চাহিদা থাকায় এটি ঢাকার বাজারে পাঠানো হবে।
জেলে আব্দুর রহিম মাঝি বলেন, ‘অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালে ভোল মাছটি ধরা পড়ে। এত বড় মাছ পেয়ে আমরা আনন্দিত। ভালো দাম পাওয়ায় আমরা খুশি।’
সুস্থ সাগর প্রকল্পের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান জানান, গ্রুপার ফিশ বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান সামুদ্রিক মাছ। স্থানীয়ভাবে এটি সামুদ্রিক ভোল, হামুর বা কৈবল নামেও পরিচিত। সাধারণত গভীর সমুদ্রের পাথুরে তলদেশ ও প্রবালপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় এদের বিচরণ বেশি। সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের চেয়ারম্যান রাজিব সরকার বলেন, ‘মাছটি গলিয়াথ গ্রুপার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ধরনের বড় আকারের শিকারি মাছ সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে ধীর বৃদ্ধি ও দেরিতে প্রজননক্ষম হওয়ার কারণে এ প্রজাতি অতিরিক্ত আহরণের ঝুঁকিতে রয়েছে। সঠিক প্রজাতি শনাক্তে মর্ফোলজিক্যাল পরীক্ষা ও ডিএনএ বারকোডিং বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গ্রুপার ফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের মাছ হওয়ায় এটি খুব বেশি ধরা পড়ে না। এ ধরনের বড় সামুদ্রিক মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়া তাদের জন্য আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়। এতে জেলেরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হন, তেমনি সাগরে মাছ আহরণে তাদের উৎসাহও বাড়ে।’