প্রাথমিকে যোগদান আজ— কেউ হাসছেন, কেউ কাঁদছেন এখনও

০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ AM
নিয়োগপত্র না পেয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনশন

নিয়োগপত্র না পেয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনশন © সংগৃহীত

আজ বৃহস্পতিবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করবেন নিয়োগপ্রাপ্তরা। কারও হাতে ইতোমধ্যে নিয়োগপত্র। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে তারা ছুটছেন কর্মস্থলে। আবার একই নিয়োগে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া কেউ কেউ এখনও অপেক্ষায়। কেউ অনশন করছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে। কেউ আবার অজানা কারণে বাদ পড়ার কষ্টে কাঁদছেন।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসগুলো। তাদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের কথা বলা হয়েছে। তবে সুপারিশ পাওয়ার পরও অনেকের নাম চূড়ান্ত নিয়োগের তালিকায় না থাকায় তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে কেউ কেউ পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। আবার অনেকেই গতকাল পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়া ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে ৫৩০ জন নিজের ইচ্ছায় আবেদন করেননি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ফলে চূড়ান্ত আবেদনের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৮৫৪ জনের। এই শিক্ষকদের মধ্যে এখনও প্রায় শতাধিকের বেশি প্রার্থীকে দেওয়া হয়নি চূড়ান্ত নিয়োগপত্র। 

এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এখনো ৮১৭ জনের তথ্য যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন। কারও কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিয়োগপত্র দেওয়ার আগে তাদের ঠিকানা ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা যাচাই শেষে নিয়োগপত্র দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। এরপর চূড়ান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্বাচিত প্রার্থীরা ১ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। যথাসময়ে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। যোগদানের পর ৪ অক্টোবর পদায়ন করা হবে। এরপর তাদের প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।

প্রাথমিক অবস্থায় নিয়োগপত্র না পেয়ে হতাশ হয়েছেন অনেক প্রার্থী। তবে তাদের বড় একটি অংশ পরে নিয়োগপত্র পেয়েছেন। কেউ নিয়োগপত্র হাতে নিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে চাকরিতে যোগ দিতে বের হয়েছেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুখে ফিরেছে স্বস্তির হাসি।

এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস। তারা জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অনুভূতি আলাদা। পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়েছে। আজ কর্মস্থলে যোগ দিয়ে নতুন জীবনের শুরু করতে চান তারা।

তবে একই দিনে একই নিয়োগের আরেকটি ছবি ভিন্ন। নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের কয়েকজন এখনও অপেক্ষা করছেন। কেউ জানতে চাইছেন, কেন তাদের নিয়োগ আটকে আছে। কেউ বসেছেন অনশনে। কারও কণ্ঠে হতাশা, কারও চোখে পানি।

কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন তাদেরই একজন। ফোনে কথা বলার সময় হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে ভারী হয়ে ওঠে তার কণ্ঠ। কান্নার চাপে কিছুক্ষণ কথাও বলতে পারেননি।

কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর সাদ্দাম বলেন, ‘কী কারণে আমার নিয়োগপত্র দেওয়া হলো না, আজও জানি না।’

এরপর জমে থাকা কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ে আন্দোলন করেছি। সম্মুখসারির নেতৃত্ব দিয়েছি। তারপরও আমাকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি, আমার অপরাধ কী যদি একটু জানতে পারতাম। তবুও মনকে বোঝানো যেত।’

সুপারিশপ্রাপ্তদের ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান

সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের কেউ কেউ গতকালও অনশন করেছেন। ময়মনসিংহ ও জামালপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন তারা। ময়মনসিংহে নিয়োগের তালিকায় নাম না থাকা ১১ জন প্রার্থী গতকাল বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ময়মনসিংহ জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

অনশনে থাকা প্রার্থীদের দাবি, তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার তথ্যও তাদের জানা নেই। এরপরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলে তাদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে।

তবে ২২ জনের নিয়োগ স্থগিতের বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাদের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।

অন্যদিকে জামালপুরে সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৫১ প্রার্থী গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করেছেন। সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে তারা কর্মসূচি শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দার সামনে সারি করে বসে আছেন ২৫ থেকে ৩০ জন প্রার্থী। কারও হাতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। কারও মাথায় বাঁধা জাতীয় পতাকা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে সোমবার আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ৫১ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

শুধু ময়মনসিংহ ও জামালপুর নয়, দেশের আরও কয়েকটি জেলায় সুপারিশ পেয়েও একাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। কুড়িগ্রামেও এমন পাঁচজন রয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা ওই পাঁচজনের রিপোর্টসহ তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। অধিদপ্তর মন্ত্রণালয়কে দেবে। তারপর মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেয়, সেই সিদ্ধান্তের আলোকেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

বই পড়ার অভ্যাসে কমতে পারে একাকিত্ব, ভালো থাকতে পারে মস্তিষ্…
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হবে কোরিয়ান লিট ফেস্ট, তারিখ …
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
শিশুদের ‘নোবেল’ পুরস্কারে মনোনীত হলেন সাতক্ষীরার দুই বন্ধু …
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রাথমিকে যোগদান আজ— কেউ হাসছেন, কেউ কাঁদছেন এখনও
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
এশিয়ান গেমসে স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬
গোবিপ্রবিতে বছরে ৩৬ লাখ টাকা মেডিকেল ফি, তবুও চিকিৎসাসেবা ন…
  • ০১ অক্টোবর ২০২৬