ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য © সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ)-২০২৬।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মেলাটি গত ১ জানুয়ারি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
মেলা উদ্বোধন উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়াসহ ১১টি বিদেশি প্যাভিলিয়ন অংশ নিচ্ছে। দেশ-বিদেশের উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মোট ৩২৪টি স্টলে বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় মেলা প্রাঙ্গণে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মেলায় প্রবেশের টিকিটের মূল্য বড়দের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আন্দোলনে আহতরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। আধুনিকায়ন হিসেবে এবার ই-টিকিটিং ও অনলাইনে টিকিট ক্রয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আপনার এনআইডি দিয়ে কয়টি মোবাইল নিবন্ধিত, জানবেন যেভাবে
দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে বিআরটিসির ২০০টিরও বেশি শাটল বাস নিয়মিত চলাচল করবে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস যুক্ত করা হয়েছে। বিদেশি উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, দুটি শিশু পার্ক এবং একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। খাবারের জন্য রয়েছে ৫০০ আসনবিশিষ্ট ক্যাফেটেরিয়া ও একাধিক রেস্টুরেন্ট, যেখানে খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে মোবাইল কোর্ট।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য ৫০০ ধারণক্ষমতার দোতলা ভবনের পাশাপাশি বাইরেও বিশাল খোলা জায়গা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলা দেশীয় পণ্যের প্রসার ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান ইপিবি।